রাজশাহী

নিয়ামতপুরে চারজনকে হত্যা: অভিযুক্ত ভগ্নিপতির বাড়িতে গ্রামবাসীর আগুন

নিউজ ডেস্ক২৩ এপ্রিল ২০২৬২ মিনিট পড়া
Screenshot

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভগ্নিপতির বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দুপুরে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার আব্দুস সামাদ হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজ রানা হলেন আব্দুস সামাদের ছেলে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা, তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে পারভেজ হোসেন এবং ৩ বছর বয়সী কন্যা সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সামাদ ও সবুজ রানা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আব্দুস সামাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আগুনে মাটি ও টিনের চালার একতলা বাড়িটির ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার খবর জানাজানি হলে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ওই বাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

নিয়ামতপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার সাহাদাত জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ততক্ষণে ঘরের অধিকাংশ আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এদিকে, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।