আন্তর্জাতিক

নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ১৩ দিন পর ইবোলা শনাক্ত, প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা

নিউজ ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নাইজেরিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো ইবোলা রোগী ধরা পড়েছে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত রোগী অসুস্থ হওয়ার ১৩ দিন পর তার পরীক্ষা করা হয়েছে।

এই বিলম্বের কারণে ইতিমধ্যেই আফ্রিকার চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ মহামারি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের আসল সক্ষমতা কতটুকু, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ৩হাজার কিলোমিটার দূরে কঙ্গোয় প্রথম সনাক্ত হওয়া মহামারিটি এখন পর্যন্ত ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। গত মঙ্গলবার নাইজেরিয়ায় রোগী শনাক্ত হওয়ার আগেই এই ভাইরাস উগান্ডা ও কেনিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলে, আফ্রিকার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত ভাইরাসের সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃতের ঘটনা।

আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ -এর মহাপরিচালক ডক্টর জ্যাঁ কাসেয়া রয়টার্সকে জানান, আক্রান্ত রোগীটি একজন সুইস কূটনীতিকের উগান্ডায় জন্মগ্রহণকারী স্ত্রী। তিনি উগান্ডায় দুই সপ্তাহের ছুটি কাটানোর পর গত ৩ অক্টোবর নাইজেরিয়ার রাজধানী ও প্রধান পর্যটন কেন্দ্র আবুজায় এসে পৌঁছান।

নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের বিবরণের বরাত দিয়ে ডক্টর কাসেয়া বলেন, আবুজায় পৌঁছানোর তিন দিন পর (৬ অক্টোবর) ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে ম্যালেরিয়া হয়েছে ভেবে তিনি বেশ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন।

অবশেষে দীর্ঘ দিন পর, গত ১৯ অক্টোবর তার ইবোলা পরীক্ষা করা হয়। তাতে পজিটিভ আসে রিপোর্ট।
ঝুঁকির মুখে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ

ডক্টর কাসেয়া সতর্ক করে বলেন, ‘যখন আমরা এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকা তৈরি করেছিলাম, তখন নাইজেরিয়া সেই তালিকায় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং নাইজেরিয়াও এই ঝুঁকির মধ্যে চলে এসেছে।’

তিনি আরো জানান, এই ভাইরাসের কারণে এখন ঝুঁকির তালিকাটি নতুন করে তৈরি করতে হবে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আফ্রিকাও এই বিপদের মুখে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা বোঝাতে গিয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে আজ কেউই নিরাপদ নয়।’

কন্ট্যাক্ট-ট্রেসিংয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেরিতে শনাক্তকরণের কারণে ওই নারী আরও কতজনকে সংক্রমিত করে থাকতে পারেন, তাদের খুঁজে বের করার কাজটি (কন্ট্যাক্ট-ট্রেসিং) এখন অনেক বেশি কঠিন ও জটিল হয়ে পড়বে। নাইজেরিয়া কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে শনাক্ত করেছে। তবে কাসেয়া এবং অন্যান্য ইবোলা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সংখ্যাটি আরও অনেক বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ইবোলা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীরে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর, তার লালা, রক্ত বা অন্য কোনো শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই মারাত্মক ভাইরাসটি ছড়ায়।

এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত ৪ হাজার ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।