সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান বিক্ষোভে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার গ্রিসজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী।
তাদের অভিযোগ, ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের মতো তারাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

অ্যারিস্টটল ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকির একটি ছাত্র ইউনিয়নের প্রধান কাতিয়া কুবুসিদু এএফপিকে বলেন, ‘ফ্রান্সের মতো গ্রিসেও আমরা সরকারি ও বিনা মূল্যে শিক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই বিক্ষোভ একবারেই শেষ হবে না। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী এথেন্সে বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন।
দেশটির অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার কয়েক ডজন শিক্ষার্থী এথেন্সের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে সিনতাগমা স্কয়ারে এবং থেসালোনিকির একটি পথচারী সড়কে তাঁবু স্থাপন করেন।
এদিকে বুধবার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও সরকারি কর্মচারীরাও ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট এবং শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার সঙ্গে দেশের পরিস্থিতির কোনো মিল নেই, এমন অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস সোমবার বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে আর্থিক সংকটের সময় গ্রিসে যে ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, দেশটি আর কখনো সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। সে সময় সরকারের অজনপ্রিয় ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। এ সময় সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয়, শত শত দোকানপাট লুট করা হয় এবং দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গ্রিস তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই হার অন্যতম কম। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে শিক্ষা খাতে গড় ব্যয়ের হার ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
এথেন্সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫৭ বছর বয়সী পৌরকর্মী মারিয়া বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ চায় না মানুষ মানসম্মত শিক্ষা পাক। তাই আমরা বুঝতে পারছি না, কী ঘটছে।’ গ্রিসের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং আরও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে।
এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকার ১৭ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইয়ানিস পাপানিকোলাউ বলেন, ‘স্কুল ভবনগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও করা হয় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, জানালাগুলো ভাঙা এবং রেডিয়েটরগুলো নষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনের ফলে হয়তো কিছু পরিবর্তন আসবে। ফ্রান্সের আন্দোলন গ্রিসকেও উৎসাহিত করবে।’
গ্রিসের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনিয়ন ওএলএমই জানিয়েছে, দেশজুড়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে উত্তর গ্রিসের থেসালোনিকি শহরের কাছে থার্মিতে একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী আহত হয়।
এ ছাড়া সোমবার এথেন্সের একটি স্কুলের প্রবেশপথেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত স্কুল ছুটির সময়ের বাইরে এ ঘটনা ঘটায় সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। অন্যদিকে গ্যাস লিকের আশঙ্কায় তদন্ত চলায় এথেন্সের একটি বড় স্কুল কমপ্লেক্স প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।









