নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজার থেকে দুর্গাপুর উপজেলা সদরের দূরুত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। প্রায় ৬ মাস আগে এই ১৪ কিলোমিটার রাস্তাটিই সংস্কার করা হয়। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আর কোটি টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার সংস্কার কাজ করে দুর্গাপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত বর্ষায় এই পুরো রাস্তাজুড়েই খানাÑকন্দকে পরিণত হয়।
কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে যেন পুকুরে পরিণত হয়। আর এতে করে রাজশাহী শহরের সঙ্গে দুর্গাপুর, পবা ও পুঠিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মতিহারে হরিয়ান বিল থেকে রাস্তাটির খানা-খন্দক শুরু হয়েছে। এরপর বিলের মাঝখানে রহমান জুটমিলের সামনে বিশালাকার জায়গাজুড়ে রাস্তা ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই এখানে পুকুরে পরিণত হয়। সেখান থেকে একটু দূরেই অবস্থিত পুঠিয়ার মহেন্দ্রা বাজার এ বাজারের উত্তর দিকে পুকুরের পাশেও একই অবস্থা। এখানে গর্তটি এতো বড় যে একটু সামান্য ভুল করলেই যানবহন নেমে যাবে পুকুরে। সেখান দিয়ে একটি রিকশা গেলেও বিপরীত থেকে আসা আরেকটি যানবাহনকে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে রিকশাটি পার হওয়ার জন্য।
মহেন্দ্রা বাজার থেকে আরেকটি সামনে বেড়ে মহেন্দ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে প্রায় ৫০ ফিট রাস্তাজুড়ে গত অন্তত ৬ মাস ধরে কাদা-পানি জমে আছে। এখানে রাস্তা ভেঙে গর্তে সৃষ্টি হয়ে সবসময়ের জন্য কাদাপানি লেগে আছে। দুই দিকের বাড়ি-ঘরের পানি নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটিই যেন পুকুরে পরিণত হয়ে আছে। পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায় না সেইদিক দিয়ে। কাদা-পানি লেগে যায় শরীরে। এর পরে দুর্গাপুরের আমগাছী বাজার থেকে দুর্গাপুর উপজেলা সদর পর্যন্ত বাকি ৭ কিলোমিটার রাস্তার পুরোটিই খানা-খন্দকে ভর্তি। ফলে সবিমিলিয়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে যান চলাচল করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। এমনকি প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা-এমনটিই দাবি করেছেন এ রাস্তাটি চলাচলকারী যানবাহন চালকরা।
জানতে চাইলে দুর্গাপুরের আমগ্রামের অটোরিকশা চালক নজরুল ইসলাম জানান, গত বর্ষার আগেই এই রাস্তাটির সংস্কারকাজ করা হয়। কিন্তু বর্ষা যেতে না যেতই গোটা রাস্তা ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। আর ভাঙা-চুরা রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালানোও যাচ্ছে না। প্রতিদিনই কোনো কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে গাড়ীর। আবার যাত্রীরাও হচ্ছে বিরক্ত। এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে তাদের।
ট্রাক চালক নয়ন বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন পুকুর থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ ট্রাক তাজা মাছ নিয়ে যেতে হয় ঢাকায়। আর সব ট্রাকই যায় এই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু রাস্তাটি ভাঙা থাকায় চরম আতঙ্ক নিয়ে ট্রাক চালাতে হয়।
স্থানীয় মহেন্দ্রা বাজার এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের নামে শুধু অর্থ লোপাট করা হয়েছে। সংস্কারের পর ১৫ দিনও ভাল থাকেনি রাস্তাটি। বর্ষার আগে আগে রাস্তাটির একদিকে সংস্কার কাজ চলেছে তো অন্যদিকে ভাঙতে শুরু করেছে। ওইসময় এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও উল্টো এলাকাবাসীকেই নানাভাবে হুমকি দিয়েছেন ঠিকাদার এবং বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের লোকজন। ফলে কেউ আর এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেনি।
জানতে চাইলে রাজশাহী বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘রাস্তাটি সংস্কার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন এতো দ্রুত ভেঙে গেল, সেটিও তদন্ত করা হবে।
অন্যদিকে দুর্গাপুর পৌরসভা অংশের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারি প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, বর্ষার কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। সংস্কার কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রয়োজনে আবার রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।
স/আর









