নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর দুর্গাপুরের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) অপহরণের পর অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হলেও বর্তমানে সে মানসিকভাবে ভারসম্য হারিয়ে সজ্ঞাহীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে অপরহণের ঘটনায় মেয়েটির বাবা উপজেলার ঝালুকা গ্রামের আজমত আলী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেনি আসামিরা হলো, একই গ্রামের উজ্জল হোসেন ও রাসেল হোসেন। আসামিরা মামলা তুলে নিতে বাদীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও দাবি করেছন আজমত আলী।
উদ্ধারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতেও ছাত্রী ওই দুই আসামির নাম আদালতকে জানিয়েছেন। এছাড়াও এ ঘটনার সহযোগী হিসেবে সেনা সদস্য রাসেলের নামও উল্ল্যেখ করেছে। অপরহণের পর উজ্জল ও রাসেল ওই ছাত্রীকে রাসেলের বন্ধুর ফুফুর বাসা যশোরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বলেও আদালতকে জানিয়েছে কিশোরীটি।
জানা গেছে, দুর্গপুরের আমগাছি শাহার বানু উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়েন সেই কিশোরী। গত ২৫ আগস্ট সকাল প্রাইভেট পড়ে বাসায় আসার পথে একই এলাকার উজ্জ্বল ও লালন তাকে অপহরণ করে। তারা ওই কিশোরীকে অটোরিকশায় তুলে রাজশাহীর কাটাখালী নিয়ে আসে। সেখান থেকে তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাবাস বাংলা মাঠে নিয়ে আসে। তার কিছুক্ষণ পরে তারা ওই কিশোরীকে আবার কাটাখালী নিয়ে গিয়ে বাসে উঠিয়ে যশোর নিয়ে যায়।
তারা সেখানে সেই কিশোরীকে সেনা সদস্য রাসেলের বন্ধুর ফুফুর বাসায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।
এদিকে কিশোরীকে অনেক খোঁজা-খোঁজি করে না পাওয়া গেলে তার পরের দিন বাবা বাদি হয়ে দুর্গাপুর থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ আগস্ট দুর্গাপুর থানা পুলিশ কিশোরীকে যশোর থেকে উদ্ধার করে।
যশোর থেকে কিশোরীকে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে আশার পরে প্রথমে রাজশাহী কোর্টে পাঠায়। সেখানে তার ১২২ ধারায় জবানবন্দি নেয় আদালত। পরে তার স্বাস্থগত পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার স্বাস্থগত পরীক্ষা শেষে তার বাবার কাছে বুঁঝিয়ে দেয়া হয়।
এই ঘটনায় পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর মেয়েটি হঠাৎ করেই অসুস্থ্য হয়ে পরে। তাকে এলাকায় চিকিৎসা দেয়া হলেও তার অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বের্ডে ভর্তি করা হয়। সে বর্তমানে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দিনে দিনে তার অবস্থার আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। এমনকি মানসিকভাবেও সে ভারসম্য হারিয়ে ফেলেছে। সজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছে মেয়েটি-এমনটিই বলছিলেন কিশোরীর বাবা।
তিনি বলেন, আসামি পক্ষ থেকে আমাকে আর আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে মারধরের হুমকি দিচ্ছি। তারা মোবাইলসহ প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
স/আর









