গোলাম রসুল,দুর্গাপুর :
রাজশাহী দুর্গাপুর সদরে অবস্থিত ব্রিজ পারাপারে এখন পথচারিদের পথের কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত ব্রিজের ওপরে বসছে দোকানপাট। সাথে যোগ হয়েছে তিন চাকার যানবাহনের স্ট্যান্ড। ট্রাফিক পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকার কারনকে দায়ী করছেন অনেকেই। যার ফলে হাটবার ও অন্যান্যদিনেও ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে জরুরী সেবায় নিয়োজিত যানবহনসহ হাজারও পথচারীদের। এমন দুর্ভোগের ফলে ঘটছে দূর্ঘটনাও। প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক ব্যাক্তিরা অভিযোগ করেও সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারেননি কেউ।
সবশেষ এমন নিত্য জনদুর্ভোগ থেকে রক্ষায় গত ১৬ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিজের দুই মাথায় দুইটি সাইনবোর্ড ঝলিয়ে দেওয়া হয়। যে টায় লেখা রয়েছে ব্রিজের উপরে সকল প্রকার যানবাহন রাখা নিষেধ। তবে অস্থায়ী দোকাপাটের কোনো কথা উল্লে ছিলো না সেই সাইবোর্ডে। তার পরেও চলছে ব্রিজের উপরে সকল কাজ। কে শুনে কার কথা।
জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলা সদরে প্রাণকেন্দ্রে হোজা নদীর ওপর পুরনো ব্রিজ ভেঙ্গে নির্মিত করা হয় নতুন ব্রিজ। ব্রিজ নির্মাণের পর থেকে যানযট এড়াতে রাখা হয় ট্রাফিক পুলিশ। কয়েক মাস পার হলেই সেই ট্রাফিক তুলে নেওয়া হয়। এর পর থেকে কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের ছত্রছায়ায় ওই ব্রিজে বসতে শুরু করে সবজি,পিয়ারা, কলা, ডাব,ফল সরবত ও ভাজাপড়ার দোকানসহ বিভিন্ন রকমারি পণ্যের হাট। সকাল থেকে রাত প্রযন্ত ব্রিজের ওপরেই চলে বেচা কেনা। সেই সাথে তিন চাকার ভ্যানগাড়ি ও অটো রিক্সার অস্থায়ী স্ট্যান্ড। বর্তমানে ব্র্রিজের দুইপার্শ্বে বিভিন্ন রকমারি পণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসায় ও ভ্যান গাড়ি রেখে যাত্রি উঠা নামা করার কারনে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। আর এ কারনেই দুই দিক থেকে যানবাহন পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম জনদুর্ভোগ, ঘটছে দুর্ঘটনাও।

ব্রিজের উপরে কথা হয় পথচারির সাইফুল ইসলাম ও মামুনের সাথে তারা বলেন, এই ব্রিজের দুই পাশে বিভিন্ন প্রকার রকমারী পণ্যের দোকান দেওয়ায় এবং ভ্যানগাড়ির স্ট্যান্ড হওয়ার কারণে ব্রিজ দিয়ে হেঁটে চলাফেরা অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি ব্রিজের দুইপাশে যে তিন ফিটের ফুটপাত রয়েছে সেই ফুটপাতটিও ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। এটির স্থায়ী একটি সমাধান প্রয়োজন। প্রশাসন চাইলেই এর সমাধান করতে পারেন।

কলেজ শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, এই ব্রিজের উপরে হাট বসার কারণে বিশেষ করে প্রতি বুধবার ও রবিবার উপজেলা মোড় থেকে জিয়া চত্বর মোড় পর্যন্ত জ্যামের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যারা অফিস-গামী, শিক্ষার্থীরা ও কৃষক রয়েছেন তাদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। তাদের এই জ্যাম ঠেলেই হাজির হতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় ব্যয় হয় অন্যদিকে দুর্ঘটনাও স্বীকার হতে হয় অনেককে।
ব্রিজের উপরে কেন দোকান বসিয়েছেন এমন প্রশ্নে এক সরবতের দোকানদার বলেন, ব্রিজের উপরে অনেক বেচাকেনা হয় তাই। তিনি প্রতিদিন ব্যবসা শেষে ব্রিজের উপরেই তার অস্থয়ী সরবতের দোকান পলিথিন দিয়ে ঢেকে বাড়ি চলে যান। পরেরদিন সেই দোকান মেলে আবারো ব্যবসা পরিচালনা করেন। এমন ভাবে অনেকই ব্রিজের উপরে দোকান ব্যবসা করেন।
পানানগর গ্রামের কৃষক আলামিন জানান, আমাদের দুর্গাপুর সিংগা হাটে বিভিন্ন কাঁচামাল বেচা কেনা করতে যেতে হয়। বাড়ি থেকে বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। অথচ ব্রিজ পার হতে সময় লাগে যায় প্রায় আধা ঘণ্টা।

সেলিম নামের এক মাইক্রো চালক জানান, আমাদের প্রতিদিন ব্রিজ দিয়ে দুইবার তিনবার করে পারাপার হতে হয়। বিশেষ করে আমরা ইমারজেন্সি রোগীর বেশি ভাড়া মেরে থাকি। ব্রিজের উপরে অস্থায়ী দোকানপাট বসানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। আর এই কারণে আমরা সময় মত রোগী নিয়ে হাসপাতাল গুলোতে পৌঁছাতে পারি না। ফলে অনেক সময় রোগী নিয়ে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, ব্রিজে যানযট এড়াতে জনস্বর্থে সাইবোর্ড দেওয়া হয়েছে। পথচারীদের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ‘পাইলট’ আকারে একজন আনসার সদস্যকে কিভাবে নিয়োগ করা যায়, তার পক্রিয়া চলছে। আশাকরি কিছুদিনে মধ্যেই ব্রিজের যানযটের যে সমস্যা তার সমাধান হয়ে যাবে।









