নিজস্ব প্রতিবেদক:
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এবার তৃতীয আসরের দল রাজশাহী কিংস’র লগো উন্মোচন করা হলো। এ উপলক্ষে শনিবার ছিল রাজশাহীবাসীর কাছে ছিল একটি আনন্দঘন দিন। রাজশাহী কিংস এর উদ্যোগে শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মেগা কনসার্ট।
তিন দিন আগে থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে শুরু হয় কনসার্টের টিকিট বিক্রি। ২০০ টাকা টিকিট সাথে জার্সি ফ্রি। হলুদ আর কালো জার্সির খোজে গ্রাম থেকে শহরে ভীড় জমান অনেকে। অনেকে দেরী করে হলেও বন্ধুবান্ধবের জন্য অর্ডার নিয়ে গ্রামে পৌঁছে দেয় টিকিট। জার্সির চাহিদা আর টিকিটের প্রভাব তিন দিন ধরেই রাজশাহীর আনাচে-কানাচে দেখা গেছে। ছেলে কিবা বুড়ো সবাই এক জার্সিতে। দলকে সমর্থনের এক নতুন রুপ দেখলো রাজশাহীবাসী।

শনিবার কনসার্টের দিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল চারটা। পুরো রাজশাহী বিভাগ যেন শহিদ এ এইচ এম কামরুজ্জামাান ষ্টেডিয়ামের লক্ষ্যে। মনে উত্তেজনা মুখে হাসি নিয়ে দল বেধে বাসে, অটোরিকশাতে আর রিকশায় চড়ে আসতে থাকেন। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে পুরো স্টেডিয়াম হলুদ আর কালোতে বর্নিল হয়ে গেল। কারো কারো ভাষায় এমন ভাবে ষ্টেডিয়ামে কখনো আসা হয়নি। আর আসা হলেও এত্ত জনকে এক কাতারে কখনো দেখেনি। এ যেন প্রাচীন কোন রাজ্যের রণ প্রতিযোগীতার আসর। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

গ্যালারীতে পুরুষদের আধিক্য থাকলেও ভিআইপিদের স্থানে মহিলা এবং নারী সমর্থকদের আধিক্য ছিলো বেশি। রাজশাহী কিংস’র সমর্থনে পরিবারের ছোট সদস্যরাও বাদ পড়েনি। হলুদ কালো জার্সি পরে তারাও উচ্ছাসিত হতে আসে কনসার্টে।
হঠাৎ দর্শকদের মন মাতাতে মঞ্চে উঠলেন উপস্থাপক রাজশাহীর সুবর্না নাওদী এবং বরিশালের চলচিত্র নির্মাতা, উপস্থাপক দেবাশীষ বিশ্বাস। আর তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আসলেন মিরাক্কেল চ্যাম্পিয়ন আবু হেনা রনি। মজার মজার কৌতুক আর একক অভিনয়ে শুরুটাই যেন হলো হাসির মাধ্যমে।

এরপর গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন আরিফ। তার একাধিক গান দর্শকদের মনযোগ আকর্ষন করে। বিমহিত সুরে বাংয়লাদেশের পপ সম্রাট আজম খানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে গাইলেন বাংলাদেশ।
সন্ধ্যা হতেই উপস্থাপকের আহ্বানে স্টেডিয়ামের গ্যালারী হয়ে উঠলো আলোকিত। দলকে শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানাতে দর্শকদের সেলফোনের সাদা আলো যেন তারা মেলা একে দেয়।
এর পর আসরের মূল আকর্ষণ। দলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। মঞ্চে উঠলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি এবং বিশেষ অতিথি তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, রাজশাহী-৩ আসনের (পবা-মোহনপুর) এমপি আয়েন উদ্দীন। এ সময় তারা নানাভাবে রাজশাহী বিভাগ এবং রাজশাহী কিংসকে তুলে ধরেন।
সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় মঞ্চে আসেন দেশের বিখ্যাত ব্যান্ড দল এলআরবি। এ সময় দর্শকদের উচ্ছাসই জানিয়ে দেয় তারা কতটা আশায় ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুকে ঘিরে। পর পর দুটি গানের পর তার ‘সেই তুমি’ গানের প্রথম কলি শেষে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রি জুনায়েদ আহমেদ পলককে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানালেন। আইয়ুব বাচ্চুর অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী চলে গেলেন মঞ্চে। অত:পর দর্শকদের প্রাণে উচ্ছ্বাস জাগিয়ে পুরো গানটি গাইলেন মনোমুগ্ধকর কন্ঠে। এরপর প্রায় আইয়ুব বাচ্চু প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মন মাতালেন দর্শকদের ।
যাওয়ার আগে আইয়ুব বাচ্চু আবারো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহারিয়ার আলম এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে মঞ্চে আহবান জানান। এরপর তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রতিশ্রতি চান, রাজশাহী কিংস ফাইনালে জিতলে রাজশাহী দিনব্যাপী কনসার্টের আয়োজন করার জন্য। আর তাতে সাথে সাথেই সাড়া দিলেন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে দর্শকদের উত্তেজনা বাড়ছেই। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই গ্যালারীর গ্রীল টপকে চলে আসেন মাঠে। গ্যালারীর ১০ নং গেটটি প্রায় ভেংগে দেয় তারা। তাদের সিথিল করতে পুলিশ লাঠি চার্জের ভয় দেখায় কিন্তু তবুও মানতে নারাজ বাধ ভাঙা দর্শকরা। অবশেষে গেট ভেঙ্গে ঢুকতে চায় দর্শকরা। বাধ্য হয়ে পুলিশ লোহার দরজায় হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে মোতায়েন করা হয়। আবার দরজার ঠিক পাশেই দেখা মেলে আরেক চিত্র। লোহার গ্রিল ভেঙ্গে ফেলে মাঠে প্রবেশকরে অগনিত দর্শক। সেখানে পুলিশ কম থাকায় অনায়েশে মাঠে ঢোকার সাহস জুগিয়ে নেয় দর্শকেরা।
সাতটা ত্রিশ মিনিটে মঞ্চে উঠলেন পাথির্ব ব্যান্ড। এর পর একে একে চলে বিভিন্ন শিল্পীর গান।
শেষে রাত ১১টার দিকে সাঙ্গ হয় জমকালো এ আসরের। এসময় আকালে ফুটে উঠতে শুরু করে আতসবাজির খেলা। সঙ্গে ঠাস ঠাস শব্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেন দর্শকরা।
স/আর









