নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে গরুতে চাঁদাবাজির থামছে না। রাজশাহী থেকে ঢাকা আর চাঁপাই থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম দীর্ঘ এই পথে গরুতে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। কোথাও মোটর শ্রমিক আবার কোথাও ট্রাক শ্রমিক আবার পথে পথে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ গরু ব্যবসায়ীরা।

পাশাপাশি সীমান্তের ঘাট ও গরুর হাটগুলিতেও চলছে সরকার দলের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। গরুর ব্যাপারি আর ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি খামারিরাও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।
খামারিরা বলছেন, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা, ট্রাক ভাড়াসহ ঢাকায় পৌছাতেই এক গরুতে ১০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতে করে গরু ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাটবাজার ছাড়াও বিভিন্ন মহাসড়কেও। যার কারণে লাভের বদলে লোকসান কখনো কখনো গুণতেও হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে বেশি দামে কোরবানির গরু কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
- খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকার তক্তিপুর হাটটি গত কয়েক বছরের মধ্যে গরু মহিষের বড় হাটে পরিণত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে আসা ভারতীয় গরু মহিষ ছাড়াও দেশে পালিত খামারিদের গরুও এই হাটেই বিক্রি হয়।
প্রতিহাটেই দুই হাজারের বেশি গরু মহিষ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীরা। সাতরশিয়ার গরু ব্যবসায়ী মানিক জানান, এক জোড়া গরুতে হাটের টোলসহ চাঁদা দিতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকার বেশি।
অন্যদিকে বিটখাটালের নামে অহেদপুর সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় প্রতিজোড়া গরুতে আদায় করা হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।
- মানিকের মতে, সীমান্ত এলাকা থেকে শুধু হাটে গরু তুলতেই প্রতি গরুতে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা যাচ্ছে। সিন্ডিকেট করে চাঁদা তোলা হচ্ছে ঘাটে ও হাটে।
এদিকে গরুবাহী ট্রাকগুলি থেকে মহানন্দা টোল ঘরে ৫০০ টাকা, সুলতানগঞ্জ করিডোরে শুল্ক ফি গরু প্রতি ৫০০ টাকা হলেও দিতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা, রাজাবাড়ী তল্লাশি কেন্দ্রে প্রতি ট্রাকে ৩০০, আর সিটি হাটে প্রতি গরুতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।
এদিকে রাজশাহীর সীমান্ত এলাকাতেও গরু মহিষ হাটে তুলতে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গরু ব্যবসায়ী মুকুল শেখ অভিযোগ করেন সীমান্ত এলাকা থেকে নগরীর সিটি হাটে গরু আনতে ঘাটে ও হাটে একেক গরুতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে। আর এসব গরু যারা ঢাকায় নিয়ে যাচেছন তাদের পথে পথে কয়েক হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের গরু ব্যাপারি হাজী নজরুল বলেন, ঢাকায় গরু নিয়ে যেতে নাটোর বাইপাস মোড়, হাটিকমরুল, টাঙ্গাইল বাইপাস ছাড়াও আরো তিনটি স্থানে ট্রাক প্রতি ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। হাজী নজরুল আরো বলেন, চাঁপাই বা রাজশাহীতে একটি গরু যে দামে কেনা হয়, পথে পথে চাঁদা দিতে দিতে গরুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে গরুর দাম বাড়ছে।
এদিকে রাজশাহীর সিটি হাটে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার করে গরু উঠছে। দিনদিন গরু আমদানি বাড়ছে। তবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে গরু আমদানি কিছুটা কমেছে বন্যার কারণে। অন্যদিকে এই অঞ্চল থেকে কোরবানি উপলক্ষে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক করে গরু ঢাকায় ও চট্টগ্রামে চালান হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গরু আমদানি ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দেশের বৃহত্তম গরুর হাট রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, গরু বহনে ব্যাপক ঝামেলা হচ্ছে পথে পথে। খামারিরা হাটে গরু আনলেও তাদের ভারতীয় গরুর মতো শুল্ক ছাড় করতে হচ্ছে। না হলে বিজিবি পথে গরু আটক করে চালান দিচ্ছে। তিনি এটাকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে করেন। তিনি আরো জানান, আমরা হাটে হাসিল আদায়ের পর ছাড়পত্র দিয়ে থাকি।
এই ছাড়পত্র বিজিবি গ্রহণ করে না। তারা কাষ্টমসের ছাড়পত্র না হলে গরু আটক করে। আবার কোথাও কোথাও পুলিশও গরুবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা তুলছে। এতে ঢাকা গরু পৌছাতে শুধু চাঁদা দিতে দিতে গরুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি এই হয়রানি বন্ধের দাবি করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ হোসেন বলেন, পথে কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ তার জানা নেই।
স/আর









