সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সেরে উঠেছেন ৯১ শতাংশ করোনা রোগি। এর পিছনে রয়েছে হাইড্রোক্সিক্লোকুইনের অবদান। এমনই দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের। তাঁরা বলছেন ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত এই ওষুধ কাজ করছে করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিডোট হিসেবে। যা ভবিষত্যে করোনার চিকিৎসায় নতুন মাত্রা আনতে পারে।
অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকান ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জেন বা এএপিএস জানাচ্ছে তথ্য অনুযায়ী ২৩৩৩ জন রোগির ওপর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে চিকিৎসা চলছিল। ৯১.৬ শতাংশ রোগি সেরে উঠেছেন। অ্যারিজোনার গভর্ণর ডউজ ডুসেকে লেখা চিঠিতে ওই সংগঠন বলেছে আরও বেশি মাত্রায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার প্রয়োজন। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে সঠিক পরিমাণে এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত বলে মত সংগঠনের। চিকিৎসকরা বলছেন, যে কয়েকজন এই ওষুধ খেয়ে মারা গিয়েছেন, তাঁরা প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন। তাই এটা প্রমাণিত হয় না, যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন তাদের ওপর কাজ করেনি।

এদিকে, এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়েও চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, করোনার ওপর কতটা কাজ করবে এই ওষুধগুলি তার প্রমাণ না মিললেও, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বেশ কিছুটা জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়া এই ওষুধ খাওয়ার ফলে হতে পারে। কানাডিয়ান মেডিক্যাল জার্নাল বলছে শরীরের বড়সড় ক্ষতি হতে পারে ওই ওষুধগুলি খেলে। সুতরাং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেই এই ওষুধ খাওয়া উচিত।
অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকিও থেকে যায় ক্লোরোকুইন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজাইথ্রোমাইসিন খেলে। সানিব্রুক হেল্থ সায়েন্স সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি অ্যাণ্ড টক্সিকোলজি বিভাগের বর্ষীয়ান সদস্য ডেভিড জুরলিংক বলছেন স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা তৈরি হতে পারে এই ধরণের ওষুধ খেলে। মার্কিন চিকিৎসকরা তাও ভরসা করতে চাইছেন বিতর্কিত এই ওষুধের ওপর। তাঁরা যা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও অনেকটা একই কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন করোনা রোগিদের কিছু হারানোর নেই। মৃত্যু ভয় দুইদিকেই রয়েছে।
তবে যদি হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কাজ করে, তবে আফশোস হবে, কেন তা আগে ব্যবহার করা হল না। মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাম্পের দেশে ১০ লক্ষ ৩ হাজারের বেশি আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৮ হাজারের কিছু বেশি। মৃত্যু সংখ্যা পার করে ফেলেছে ৫৮ হাজার। বিশ্বজুড়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ মানুষ শুধুমাত্র আমেরিকায় মারা গিয়েছে।
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, দেশের মধ্যে নিউ ইয়র্কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ৩০৩ জনের। এরপরেই রয়েছে নিউজার্সি। সেখানে আক্রান্ত ১লক্ষ ১১ হাজার মানুষ। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজারের অধিক। সোমবারের তথ্য অনুযায়ী এই শহর ভিত্তিক রিপোর্ট সামনে এসেছে। সূত্র: কলকাতা 24








