নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজনৈতিক অকালপক্বতা, অদূরদর্শিতা ও অযোগ্যতার কারণে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াসহ গোটা পাবনা জেলায় বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে দ্রুত পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে হাবিবুর রহমান হাবিবকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনের সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার।
গতকাল শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল গ্রামের নিজ বাড়িতে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে তিনটিতে ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব দায়ী।
তার চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হাট, ইটভাটা, চর ও পদ্মানদীর বালু উত্তোলন, কমিটি বিক্রয় এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে হাবিব শোচনীয়ভাবে জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করে বলেন, সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে হাবিবুর রহমান হাবিব দলীয় মনোনয়ন পেয়ে স্থানীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। বিএনপির একটি বৃহৎ অংশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন, চরমভাবে অপমান করেছেন, বহিষ্কার করিয়েছেন। নির্বাচনের সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে হাট-ঘাট, বালুমহাল, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থেকে মাটি ও বালু কাটা, ইটভাটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপকর্ম করেছেন।
এতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও জনসাধারণ হাবিবের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই কারণে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর কাছে তার শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। এই অযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে পাবনা জেলা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়া সম্ভব নয়। তাই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দ্রুত বিলুপ্ত করে যোগ্য ও নতুন নেতৃত্ব আনার দাবি করেন সিরাজ সরদার।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর সিরাজুল ইসলাম সরদারের এই সংবাদ সম্মেলন ও সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের পক্ষে কাজ করে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো নিয়ে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সিরাজুল ইসলাম সরদারকে নিয়ে সর্বত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে কটাক্ষ ও বিদ্রুপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা রকমের মন্তব্য। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব নিজেও তার ফেসবুক আইডিতে সিরাজুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে হরেক রকম মন্তব্য করে পোস্ট দিয়েছেন। এসব নিয়ে স্থানীয় বিএনপির সিরাজ ও হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে রেষারেষি ও উত্তেজনা লক্ষ করা গেছে।
সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের একাধিক ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব লিখেছেন, পাবনা জেলা বিএনপি যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নিই, তাহলে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে। একজন দালাল সিরাজুল ইসলাম সরদার, যিনি কিনা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কোনোদিন মাঠে ছিলেন না। তিনি আবার নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। পাবনা-৪ আসনের তৃণমূলের হৃৎস্পন্দন হাবিবুর রহমান হাবিবের বিজয় রুখতে এই মীরজাফর সিরাজুল ইসলাম সরদারের নগ্ন ষড়যন্ত্র ছিল মূল কারণ।
হাবিব আরো লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে ধানের শীষের খেয়ে দলের পিঠে ছুরি মারা এই সুবিধাবাদী নেতা জামায়াতের দালাল হিসেবে সরাসরি মাঠে নেমেছিলেন। যার নিজের ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের চেয়ে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বেশি পড়েছে, যার হাত ধরে ২০১৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের হয় এবং প্রার্থীর কুশপুতুল দাহ করা হয়, সেই সিরাজুল ইসলাম সরদার বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুকে দাঁড় করিয়ে দলের ভোট ভাগ করার হীন নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছেন।
তিনি লেখেন, রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমপির সঙ্গে গোপন আঁতাত আর দিনে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চললেও তার আসল রূপ এখন সবার সামনে পরিষ্কার। ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মাটি ও মানুষের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে এই বিট্রেয়ার চক্রটি গত নির্বাচনে সুপরিকল্পিতভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে। শহীদ জিয়ার আদর্শ আর ধানের শীষের সম্মান রক্ষায় এই বেঈমান, ষড়যন্ত্রকারী এবং পদলেহী সিরাজুল ইসলাম সরদারসহ সব কুচক্রী মহলকে অনতিবিলম্বে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি। দলে কোনো বেঈমানের জায়গা নেই, মীরজাফর হঠাও, বিএনপি বাঁচাও।
সিরাজুল ইসলাম সরদারের সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগের বিষয়ে সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক রাবির সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিগত আওয়ামী লীগের সময়কারের ১৭ বছরে সিরাজুল ইসলাম সরদারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখেছেন। নেতাকর্মীরা তাকে বয়কট করেছেন। সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন। ধানের শীষের পরাজয়ের পেছনে সক্রিয়ভাবে ভূমিকার রেখেছেন। এখন নতুন করে আলোচনায় আসতে একটি চক্রকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও অপ্রচার শুরু করেছেন। এসব বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
সাবেক যুবদল নেতা নুরে আলম শ্যামল বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরদার একজন রাজনৈতিক বাটপার। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপির সঙ্গে আঁতাত করে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপ্রয়াস চালাচ্ছেন।









