খেলা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার কেন্দ্র হতে চায় এবিজি স্পোর্টস সিটি

নিউজ ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং তরুণ ক্রীড়াবিদদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি।

ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের মতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এ পরিকল্পনার অন্যতম অংশ আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দলের ম্যাচ আয়োজনের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে ক্রিকেট আয়োজন করতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ফ্লাডলাইট ও গ্যালারি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে পিচ তৈরির কাজ। স্টেডিয়ামের বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট বসেছে, গ্যালারি তৈরি হয়ে গেছে, এখন পিচের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি ২০২৭ সালের মধ্যেই মাঠের কাজ শেষ করতে পারব। কাজ শেষ হলে আমরা আরো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিসিবির সঙ্গে কথা বলব।’

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। এখানকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ও ফিফার স্বীকৃতি পেয়েছে।

এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই খেলাতেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এই ক্রীড়াপল্লিতে।
তবে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিকল্পনা শুধু ফুটবল ও ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের মতো বিভিন্ন খেলার অবকাঠামো রয়েছে। জুলকারনাইন বক্সিং ও স্কোয়াশে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে শুটিংয়ের ইভেন্ট যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমরুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে স্পোর্টসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখা এবং এটাকে একটা স্পোর্টস হাব হিসেবে তৈরি করা। যাতে এই মঞ্চ থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’

বিভিন্ন খেলার নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রেও এবিজি স্পোর্টস সিটিকে বেছে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল), বাস্কেটবল ও স্কোয়াশ লিগের মতো প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন খেলার উপযোগী অবকাঠামো তৈরি এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ফুটবল দল নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসানের। আসিয়ান কাপে ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। তার মতে, লিগ শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশি কিংবা বিদেশি দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থাও করা হবে।

আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এবিজি স্পোর্টস সিটিকে বহুমুখী ক্রীড়া কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।