জাতীয়

আট হাজার হজযাত্রীর সৌদি যাওয়া অনিশ্চিত

নিউজ ডেস্ক৯ আগস্ট ২০১৭৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: প্রায় আট হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরব যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২১টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আরও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। ভিসা জটিলতা, সৌদির নতুন নিয়ম, হাজিদের বাড়ি ভাড়া ও হজ এজেন্সিগুলোর অব্যবস্থাপনায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব এজেন্সি বৃহস্পতিবারের (১০ আগস্ট) মধ্যে হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন করবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

মঙ্গলবার (০৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্পে হজ এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু হজ এজেন্সি সময়মতো রিপোর্ট না করায় হজ ফ্লাইট নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত ৪৮ হজ এজেন্সিকে ১০তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যদি সমস্যা সমাধান না হয়, তাহলে অভিযুক্ত হজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের আজ আমরা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি কিছু এজেন্সি বেশি ব্যবসার জন্য এমনটি করেছে। কিন্তু এ অন্যায় বরদাশত করা হবে না। দু’দিনের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে থেকে হজযাত্রী পরিবহন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিমানের ২৩ হাজার ৫০৯ জন ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সে প্রায় ২৬ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। এ বছর বিমান ১৭৯টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এরমধ্যে ৮আগস্ট পর্যন্ত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের বাতিল হয়েছে ৪টি হজ ফ্লাইট। এভাবে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৮ হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরবযাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ফ্লাইট বাতিল হওয়া নতুন করে সৌদি আরবে হজ ফ্লাইটের স্লট পেতে আবেদন করেছে বিমান। তবে এখন পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। অন্যদিকে, দেশটি শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিলেও শেষ সময়ে সব যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে না বিমানের। সব ফ্লাইট পরিচালনা করতে হলে বাতিল করতে হবে অন্য রুটের নির্ধারিত ফ্লাইট। ঈদের সময় এসব ফ্লাইট বাতিল করলে বিপাকে পড়তে হবে বিমানকে।

সূত্র জানায়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাবেন। এ পর্যন্ত ৭৬ হাজার হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া কার্যক্রম এখনও সম্পন্ন করতে পারেনি ৪৮টি হজ এজেন্সি। এ কারণে ভিসা পেলেও অনেক হজযাত্রী এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে যেতে পারেননি। শেষ মুহূর্তে বাড়ি ভাড়া করলেও ফ্লাইট সংকটে তাদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় পড়তে হবে।

হজ অফিসে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৭ আগস্ট) রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে প্রায় ২০টি হজ এজেন্সির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাফিজ উদ্দিন।

বৈঠকে হজ এজেন্সির প্রতিনিধিরা জানান, মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়ার কার্যক্রম শেষ হয়নি। তবে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া ও ভিসার জন্য লজমেন্টের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

হজ ফ্লাইট বাতিল প্রসঙ্গ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘হজ ফ্লাইট পরিচালনা ও ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতে দু’টি উড়োজাহাজ ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হজযাত্রী সংকটের কারণে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এর ফলে বিমানের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা নতুন করে ফ্লাইট স্লটের জন্য সৌদি আরবে আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তারা কোন সময় ফ্লাইটের স্লট দেয়, তাও বিবেচনার বিষয়। ঈদের সময়ে অন্য রুটের ফ্লাইটের চাপ থাকে। ফলে, সে সব ফ্লাইটও বাতিল করা সম্ভব নয়।’

তবে হজযাত্রীরা অনিশ্চয়তায় থাকলেও কোনও সংকট দেখছেন না হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই হজ নিয়ে সংকট হয়, আবার তা কেটে যায়। এবার নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেটিও কেটে যাবে। সব হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারবেন।’

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের অভিযুক্ত ৪৮ হজ এজেন্সিকে ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ‘তিনি বয়স্ক মানুষ, অনেক কথাই বলতে পারেন। আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি। হাবের পক্ষ থেকেও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘৪৮টি এজেন্সির কথা বলা হলেও মূলত ২২টির বাড়ি ভাড়া বাকি আছে, তাও শিগগিরই সম্পন্ন হবে।’

নতুন হজ ফ্লাইট প্রসঙ্গে হাব মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশাবাদী সৌদি আরব হজ ফ্লাইটের জন্য নতুন করে স্লট দেবে। প্রয়োজনে এয়ারলাইন্সগুলো অন্য রুটের ফ্লাইট বাতিল করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আমরাও তাদের অনুরোধ করবো।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন