রাজশাহী

পর্যাপ্ত পেট্রল-অক্টেন পাচ্ছে না পাম্প মালিকরা, ভোগান্তিতে চালকরা

নিউজ ডেস্ক২৭ মার্চ ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সঙ্কট প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পেট্রল-অক্টেনের সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠেছে। ঈদের পরে অধিকাংশ পাম্পই তেল পাইনি। হাতে-গোনা কয়েকটি পাম্প এক থেকে দুইদিন তেল পেয়েছে। ফলে তেলের সঙ্কট দূর হচ্ছে না। পেট্রল-অক্টেন না পেয়ে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ী চালকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা বেশি বেকায়দায় পড়েছেন। তেলের ওভাবে রাস্তায় বের হলেই মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে চালকদের। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগত গাড়িও দড়ি বেধে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

রাজশাহী পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির নেতারা জানান, ডিজেল মোটামুটি পাওয়া যাচ্ছে। তেমন সঙ্কট নাই এখন আর। কিন্তু প্রেটল আর অক্টেন চাহিদার তুলনায় পাওয়া যাচ্ছে না। আতঙ্কের কারণেও অনেকে বাড়তি তেল কিনছেন। যার ফলে সঙ্কট কাটছেই না। তেল এনে পাম্পে বিক্রি করতেও আতঙ্কে থাকছেন পাম্প মালিকরা।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল নয়টার দিকে নগরীর ভদ্রা এলাকায় একজন চালক রিকশাতে দড়ি বেধে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে তেল পাইনি। গাড়ি বাড়িতেই পড়েছিলো। ঈদের ছুটিতে কোথাও ঘুরতেও যেতে পারিনি। অল্প যেটুকু তেল ছিল, আজ (গতকাল) তা নিয়েই বের হয়; কোনো পাম্পে তেল পাওয়া যায় কিনা সে আশায়। কিন্তু কিছু দূর যেতেই বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি। বাধ্য হয়ে গাড়িতে দড়ি বেধে রিকশা দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই রাজশাহীতে তেলের সঙ্কট বিরাজ করছে প্রকোট। মাঝে-মধ্যে দুই-একটা পাম্পে তেল দিচ্ছে। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের ভিড়ে সেখানেও ঢুকা দায় হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত গাড়িতে তেলা পাওয়া যাচ্ছে না।’

আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কথা হয় রাজশাহীর তেরোখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি মোটরসাইকেলের তেল নিতে গেছিলেন নগরীর আলুপট্টি এলাকায় মেসার্স আফরিন পাম্পে। আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তেলের অভাবে ৫-৬ দির ধরে মোটরসাইকেল বের করতে পারিনি। ঈদের আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে। ঈদের মধ্যে পরিবার নিয়ে অটোরিকশাতে ঘুরেছি। এখনো তেলের জন্য চেষ্টা করছি পাইনি। কোনো কোনো পাম্পে তেল দিচ্ছে শুনতেছি। কিন্তু গিয়ে দেখি লম্বা লাইন। আমরা চাকরিজীবি মানুষ। এতো লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা ৩০০ টাকার তেলের জন্য অপেক্ষা করার সময় কোথায়? তার পরেও আজকে সকাল সাড়ে আটটার সময় এসেছি তেল নিতে। এখনো পাইনি।

আরেক চালক সোয়াইবুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী নগরীর অধিকাংশ তেল পাম্প বন্ধ থাকছে। হঠাৎ করে একটা-দুইটা বা তিনটা পম্পে তেল দিচ্ছে। ফলে খবর পেলেই মোটরসাইকেল চালকরা সেসব পাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। মুহূর্তেই ভরে যাচ্ছে পাম্পচত্তর। হুড়হুড়ি লেগে যাচ্ছে। এই অবস্থায় অনেকেই গাড়িই বের করছেন না।’
এই পম্পের কর্মচারী রাজিবুল ইসলাম বলেন, মোটরাসাইকেল চালকদের শৃঙ্খলার সাথে তেল দিতে দুটি লাইন করে দেওয়া হয়েছে বাঁশ বেধে। ফলে পাম্প চত্তরে কোনো বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না। কিন্তু রাস্তায় যেখানে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, সেখানেই ঘটছে ঝামেলা। প্রায় চালকরা ঝামেলায় জড়াচ্ছেন লাইন ধরা নিয়ে। শত শত চালক একসঙ্গে তেল নিতে আসছেন। আমাদেরও বেগ পেতে হচ্ছে তেল দিতে গিয়ে। ঈদের পরে আমরা দুদিন তেল দিয়েছি এভাবেই।’

রাজশাহী পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতি মোমিনুল হক বলেন, ‘তেলের সঙ্কট তো আছেই। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। দুই-চারটা পাম্পে এভাবে তেল দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব না। মানুষের মাঝে আরও আতঙ্ক বাড়ছে। ফলে যাদের প্রয়োজন নাই, তারাও মোটরসাইকেলে তেল ভরে রাখছেন। আবার ঈদের পরে মাত্র একদিন তেল পেয়েছি। যে পেয়েছি, একদিনেই শেষ হয়ে গেছে। তবে ডিজেলের কোনো সঙ্কট নাই।’

তিনি আরও জানান, রাজশাহীতে প্রায় ৪৪টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পের অন্তত ৩৫টিই বন্ধ থাকছে তেল না থাকায়। বাকিগুলোতে যখন দেওয়া হচ্ছে, তখন সবাই গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

স.আর