বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মাছের আঁশ থেকে কম খরচে কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করল স্পেন

নিউজ ডেস্ক১০ মার্চ ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মাছের আঁশ ব্যবহার করে কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করেছেন স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। যা চক্ষুরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তুলনামূলক দাতা কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চেয়ে কম খরচে ব্যবহার করা সম্ভব।

কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর, যা আলোকে চোখের ভেতরে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে। এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সহজে সুস্থ করা যায় না।

কারণ এতে রক্তনালি নেই এবং নিজে থেকেও নিরাময় হওয়ার ক্ষমতা খুব একটা নেই। ফলে গুরুতর কর্নিয়া রোগের ক্ষেত্রে এর চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত দাতার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে অঙ্গদানের সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না।
গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং গ্রানাডা বায়োমেডিকেল গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, বাজারে সহজলভ্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আঁশ ব্যবহার করে তারা এমন একটি কর্নিয়া ইমপ্লান্ট তৈরি করেছেন।

যা অত্যন্ত সহনশীল, স্বচ্ছ এবং টেকসই।
গবেষণায় অংশ নেওয়া গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ইনগ্রিড গারসন বলেন, ‘সহজ উৎসের কারণে এটি সহজলভ্য, সংগ্রহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। এটি স্থানীয় মৎস্য শিল্পকেও উৎসাহিত করতে পারে।’

গবেষকরা জানান, পরীক্ষাগারে এবং প্রাণীর ওপর চালানো গবেষণায় এ কর্নিয়ার ভালো কার্যকারিতা দেখা গেছে।

এছাড়াও কর্নিয়া সুস্থতা ও পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। তবে এটির ব্যবহার এখনো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। মানবদেহে ব্যবহারের আগে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান গবেষকরা।
গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক হিস্টোলজি অধ্যাপক মিগেল আলামিনোস বলেন, ‘প্রচলিত কর্নিয়া প্রতিস্থাপন সাধারণত ভালো ফল দেয়। তবে অঙ্গদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন এই কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা জরুরি।

’
এর আগে ২০১৬ সালে অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায়ও দেখা যায়, মাছের আঁশ থেকে তৈরি কৃত্রিম কর্নিয়া মানুষের শরীরের সঙ্গে জৈবিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।