রাজশাহী

প্রোগ্রামিংয়ের স্বপ্ন থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—রাজশাহীর তরুণ ডেভেলপার মুকিতু ইসলাম নিশাত

নিউজ ডেস্ক৬ মার্চ ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিশাতের প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ শুরু হয় ২০১৮ সাল থেকে। সেই সময় থেকেই তিনি ছোট ছোট প্রজেক্ট তৈরি করতে শুরু করেন এবং নতুন কিছু বানানোর মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পান। ধীরে ধীরে তিনি আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ডেভেলপারের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা, কোড শেয়ার করা ও নতুন ওয়েব সফটওয়্যার তৈরির অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের যাত্রা আরও বিস্তৃত হতে থাকে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান নিশাত। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান Outreachy–এর সমন্বয়ে পরিচালিত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই অর্জন করেননি, বরং রাজশাহীর নামও বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।

রাজশাহীর এই তরুণ সফটওয়্যার ডেভেলপার মুকিতু ইসলাম নিশাত সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফেলোশিপ ২০২৬ প্রতিযোগিতায় সারা দেশের শীর্ষ ৬০ প্রতিযোগীর মধ্যে ১৩তম স্থান অর্জন করেছেন। গত ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই অর্জনের মাধ্যমে রাজশাহীর তরুণদের মধ্যেও প্রযুক্তি খাতে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে।

নিশাত বর্তমানে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন এবং ওয়েব সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে চলেছেন। বিশেষ করে মার্ন (MERN) স্ট্যাক এবং সাস (SaaS) আর্কিটেকচার নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে তিনি বাস্তবমুখী বিভিন্ন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বর্তমানে Google Summer of Code ২০২৬–এ অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে নিশাত বলেন, “আমার মায়ের দোয়া থাকলে অবশ্যই আমি সফল হতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, আজ তিনি যে জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের। সবসময় অনুপ্রেরণা, সাহস এবং সমর্থন দিয়ে তার মা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। সেই ভালোবাসা ও দোয়ার শক্তিই তাকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জোগায়।