সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার ৪০০ জন নিহত ও তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে তালেবান সরকার। এটি কয়েক দশকের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
৬ মাত্রার এ ভূমিকম্প পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি প্রদেশগুলোতে রবিবার গভীর রাতে তাণ্ডব চালায়। এর পর থেকে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার এক্সে জানিয়েছেন, শুধু কুনার প্রদেশেই এক হাজার ৪১১ জন নিহত ও তিন হাজার ১২৪ জন আহত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশে আরো এক ডজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ইন্দ্রিকা রাতওয়াত্তে বলেন, এই ভূমিকম্পে ‘লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন’।
কুনারে এখনো ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ চলছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান এহসানুল্লাহ এহসান জানিয়েছেন, জরুরি উদ্ধার অভিযান সারা রাত অব্যাহত ছিল এবং দূরবর্তী গ্রামগুলোতে এখনো অনেক আহত মানুষ চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
গ্রামবাসীরা খালি হাতেই কাদামাটি ও পাথরের তৈরি ধসে যাওয়া ঘরবাড়ি সরাচ্ছেন ও উদ্ধার কাজ চালচ্ছেন।
এক বন্ধুকে খুঁজতে ওয়াদির গ্রামে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহ স্তোমান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি এখানে খুঁজছি, কিন্তু তাকে পাইনি। পরিস্থিতি দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
এখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।’
নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে, যাদের সাদা কাফনে মুড়ে নামাজ পড়িয়ে দাফন করছেন স্বজনরা। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, অনেক সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু গ্রামে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ইউএস জিওলোজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল জালালাবাদ শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে ও মাত্র আট কিলোমিটার ভূ-গভীরে। এ ধরনের অগভীর ভূমিকম্পে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা সাধারণত বেশি হয়, বিশেষত আফগানিস্তানের অধিকাংশ মানুষ নিচু, কাঁচা ইটের ঘরে বসবাস করায়।
দীর্ঘ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান বিশ্বের দরিদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর একটি। তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর বিদেশি সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরো দুর্বল করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংস্থাটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে দ্রুত প্রয়োজন নির্ধারণ ও জরুরি সহায়তা দিতে ও প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।
আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হেরাত প্রদেশে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ও ৬৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২২ সালের জুনে পাকতিকা প্রদেশে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এবারের ভূমিকম্পটি আরো ভয়াবহ হয়ে দেখা দিয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও ইরান থেকে কয়েক মিলিয়ন আফগান স্বদেশে ফিরে এসেছেন ও তাদের অনেকেই ভেঙে পড়া দুর্গম গ্রামগুলোতে বসবাস করছিলেন।









