সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:
সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে হয়। তবে চলতি বছর সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ (৩০/১২/২০০২ তারিখের সংশোধনীসহ)-এর বিধি-১৩ অনুযায়ী সব সরকারি কর্মচারীর জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিল করা আবশ্যক।
অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব সরকারি কর্মচারীকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারীকে সম্পদের হিসাবের মধ্যে আনা হচ্ছে।
হিসাব দাখিলের ফর্ম প্রকাশ
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দাখিলের প্রক্রিয়া ও এ সংক্রান্ত চার পৃষ্ঠার একটি ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর ‘সব সরকারি কর্মচারীকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রণয়নকৃত ফরম্যাট সরকারের কাছে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত সম্পদ বিবরণী নভেম্বরের মধ্যে দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। ক্যাডার বা প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তা (৯ম গ্রেড এবং তদূর্ধ্ব) তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তার সম্পদ বিবরণী নির্ধারিত সময় দাখিল করবেন।
দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড/নন-গেজেটেড কর্মকর্তারা (১০ম গ্রেড) নিজ নিজ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পদ বিবরণী নির্ধারিত সময়ে দাখিল করবেন। মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর অধীনস্ত সরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠানের গ্রেড-১১ হতে গ্রেড-২০ পর্যন্ত কর্মচারীরা তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদ বিবরণী নির্ধারিত সময়ে দাখিল করবেন।
সম্পদ বিবরণী দাখিলে অনুসরণীয় নিয়মাবলি
১. সম্পদ বিবরণী প্রদানের সময়সীমা : সব সরকারি কর্মচারীকে প্রতি অর্থবছরের সম্পদ বিবরণী ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে দাখিল করতে হবে। কেবল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
২. যে কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে : ক. ক্যাডার/নন-ক্যাডার (নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেড) কর্মকর্তা তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবের নিকট সম্পদ বিবরণী দাখিল করবেন। খ. গেজেটেড/নন-গেজেটেড কর্মকর্তা/কর্মচারীরা (১০ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড) নিজ নিজ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করবেন।
৩. জমা প্রদান প্রক্রিয়া : ক. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে। ছকটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। খ. সম্পদ বিবরণীটি সিলগালাকৃত খামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হবে।
৪. শাস্তিমূলক ব্যবস্থা : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা কোনো ভুল তথ্য প্রদান কিংবা তথ্য গোপন করা হলে বা সম্পদের কোনোরূপ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫. প্রযোজ্যতা : এই অনুশাসনমালা সব সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
৬. গোপনীয়তা সংরক্ষণ : ক. আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত সম্পদ বিবরণীর তথ্য সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ হস্তান্তরযোগ্য নয়। খ. সম্পদ বিবরণী অতি গোপনীয় দলিল বিধায় এ ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ প্রযোজ্য হবে না।
৭. পরিবর্তন ও পরিমার্জন : প্রয়োজনের নিরিখে এই নিয়মাবলি সরকার সময়ে সময়ে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের এখতিয়ার সংরক্ষণ করে।
সম্পদের বিবরণী জমা না দিলে যে শাস্তি
জনপ্রশাসন সচিব জানান, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪(৫) (গ) উপবিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর জন্য উক্ত বিধিমালার ৪(২) ও ৪ (৩) উপবিধিতে উল্লিখিত যে কোনো লঘুদ- বা গুরুদ- আরোপ করার বিধান রয়েছে।
৪(২) এ উল্লিখিত লঘুদ-সমূহ নিম্নরূপ : ক. তিরস্কার; খ. চাকরি বা পদ সম্পর্কিত বিধি বা আদেশ অনুযায়ী পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির অযোগ্যতার ক্ষেত্র ব্যতীত, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা; গ. কর্তব্যে অবহেলা বা সরকারি আদেশ অমান্য করার কারণে সংঘটিত সরকারের আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ অংশ বা তার অংশবিশেষ, বেতন বা আনুতোষিক হতে আদায় করা; অথবা ঘ. বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ।
৪(৩) এ উল্লিখিত গুরুদ-সমূহ নিম্নরূপ : ক. নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ; খ. বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান; গ. চাকরি হইতে অপসারণ; ঘ. চাকরি হইতে বরখাস্তকরণ।









