সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লায় যুবদলকর্মী কাউছার হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি তৌহিদ ও তার ভাই তানজিরের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভূঁইয়ার আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির ১৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইয়ুমুল হক রিংকু।

এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে নিহত কাউছারের ভাই মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন সদর উপজেলার মাঝিগাছারা এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), তানজির আলম (৪৮), তাদের বাবা খোরশেদ আলম ওরফে মো. হাবিব (৭০), ডুমুরিয়া চাঁনপুর এলাকার সাইফুল ইসলাম সুমন (৪০) এবং মাঝিগাছা এলাকার ফরহাদ হোসেন (২৮)।
এদিকে গতকাল শনিবার কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ সময় এসআরবি-১১, কুমিল্লা সিপিসি-২ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন ছত্রখিল এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গা নিয়ে তানজির ও তার ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাউছার ও শামীমের বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তৌহিদ ও তানজিরসহ কয়েকজন ওই জায়গায় কফি শপ নির্মাণের কাজ করছিলেন।
এ সময় কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তৌহিদ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কাউছার ও শামীমের ওপর হামলা চালান। তৌহিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাউছার গুরুতর আহত হন। এ সময় কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত কাউছারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।
পুলিশ আরো জানায়, তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ আগের সাতটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন অথবা তদন্তাধীন রয়েছে।









