জাতীয়

‘৫ কোটিতে খুন, নেপথ্যে সোনা’

Silk City২৩ মে ২০২৪৩ মিনিট পড়া
সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

৫ কোটিতে খুন, নেপথ্যে সোনা ‒ এটি আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এতে বলা হয়েছে, ভারতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ডের পেছনে সোনা কারবারের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কলকাতা পুলিশ এমনটাই সন্দেহ করছেন।

কলকাতার নিউ টাউনের অভিজাত আবাসিক এলাকার সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে অজ্ঞাতনামা স্থানে গুম করে ফেলেছে খুনিরা। এ ঘটনায় পুলিশ ঢাকার মোহাম্মদপুর ও সাভার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তারা পাঁচ কোটি টাকার চুক্তিতে কলকাতায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেছেন। পুরো কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেন আমানউল্লাহ নামের একজন। তাকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুই দেশের পুলিশের সন্দেহ, ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার আক্তারুজ্জামান শাহীনের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড হয়। খুন করার আগে বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে দেশ থেকে ছয়জনের একটি কিলিং স্কোয়াড নিয়ে যান তিনি।

পরে ব্যবসায়িক আলোচনা করতে ফ্ল্যাটে ডেকে এমপি আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা করা হয়। এরপর উবার ভাড়া করে টুকরা টুকরা করে সেই লাশ ট্রলিতে ভরে গুম করেন কিলিং মিশনের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার দেশের প্রায় সকল দৈনিকের প্রধান খবর হলো এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড।

কলকাতায় খুন বাংলাদেশি এমপি আনার, নেপথ্যে কী? ‒ এটি মানবজমিন পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানেও বলা হয়েছে যে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন, এমন শঙ্কা আগে থেকেই ছিল।

আকার ইঙ্গিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন সূত্র থেকে এমনটি বলা হয়েছিল। পরিবার-আত্মীয়স্বজন ও তার অনুসারীরাও কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। দুই দেশের পুলিশের মধ্যেও এ নিয়ে তথ্য চালাচালি চলছিল।

সবকিছু ছাপিয়ে বুধবার খবর এলো যে তিনি আর বেঁচে নেই। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে আজিমকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এমপি’র মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এমপি খুনের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখন মুখ খুলছেন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বরাত দিয়েও কিছু জানানো হয়নি।

তবে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে আনোয়ারুল আজীম হত্যাকাণ্ডের পেছনে হুন্ডি, ড্রাগস ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো বিষয় জড়িত থাকতে পারে।

এ নিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কিছু মানুষের দ্বন্দ্ব চলছে। বলা হচ্ছে, এসব কারবারে বহু বছর ধরে একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন আজিম।

এছাড়া, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেও তিনি খুন হতে পারেন বলে সন্দেহ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। কারণ একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে এসে তিনি এখন টানা তিনবারের এমপি।

ট্যাগ: