নিজস্ব প্রতিবেদক:
জঙ্গিবাদ নিয়ে আইনমন্ত্রীকে ফেসবুকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক শিবলী ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রাবির আইন বিভাগের শিক্ষক।
সোমবার সন্ধ্যায় রাবির বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

- একইসঙ্গে বিষয়টি তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সায়েন উদ্দিন আহমেদকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গুলশান হামলার পর গত ১৩ জুলাই আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক শিবলী ইসলাম তাঁকে কটুক্তি করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আইনমন্ত্রণালয় পর্যন্ত গিয়ে গড়ায়।
রাবি সূথ্র মতে, আইনমন্ত্রীকে কটুক্তি করার বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য প্রমাণসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে একটি চিঠি পাঠানো হয়।
- যাতে উল্লেখ করা হয়, তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৭ ধারা অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই চিঠি পাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভা আহবান করা হয়। সভায় সকল সদস্যের সম্মতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক শিবলী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রভাষক মো. শিবলী ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে আইন বিভাগের শিক্ষক হয়েছেন। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সময় ওই শিক্ষকের মাস্টার্স (এলএলএম ডিগ্রী) পরীক্ষা শেষ হয়নি।
- শিক্ষক শিবলী ইসলামের অনার্সে প্রথম শ্রেণি ছিল না। তাই তিনি ওই নিয়োগে শিক্ষক হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিন্তু আইন বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বে থাকা জামায়াতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ওই শিক্ষকের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে বলে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছিলেন। ওই সময়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এম. আনিসুর রহমান বিশেষ কাজে বাইরে থাকায় তার স্থলে আবদুল হান্নান দায়িত্বে ছিলেন।
শিবলী ইসলামকে অবৈধভাবে চাকরি দেয়ার কারণে ওই সময়ের চাকরিপ্রার্থী জহুরুল ইসলাম একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা এখনও চলছে। শিবলী ইসলামের চাকরি এখনও স্থায়ী বা তার কোনো পদোন্নতিও হয়নি।
স/আর









