
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নৌকা পেয়েও প্রায় অর্ধেক ভোটের ব্যবধানে পরজায় হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্সপার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার। ২৩ হাজার ৪৪০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রথমবার এমপি পদে নির্বাচন করা শফিকুর রহমান বাদশার কাছে ধরাশায়ী হলেন প্রবীণ রাজনীতিক ফজলে হোসেন বাদশা।
টানা চতুর্থবারের মতো নৌকা পেলেও নির্বাচনে জোটের প্রধান শরীক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধের কারণে দলটির নেতাকর্মীদের নিজের প্রচারণায় মাঠে নামাতে পারেননি ফজলে হোসেন বাদশা। উল্টো তাঁর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করে দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। ফলে ভোটের মাঠে ফজলে হোসেন বাদশার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ থেকে শুরু করে অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা জোরতালে মাঠে নামেন। পেছন থেকে তাঁদের সাহস যোগাতে থাকেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদ্যস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ফজলে হোসেন বাদশা নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের কথা না ভেবেই লিটন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। তার খেসারত দিতে হলো এই নির্বাচনে।
অনুসন্ধানে এবং দলীয় সূত্র মতে, গত তিনটি নির্বাচনে যে লিটন বাদশাকে আগলে রেখে এমপি নির্বাচিত করেছিলেন, সেই তিনিই এবার বেঁকে বসেন বাদশার নানামূখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। এমনকি লিটনের বাবা চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানকে নিয়েু বিদ্রুপ মন্তব্য করেছিলেন বাদশা। এছাড়া গত ১৫ বছরে নগরীর উন্নয়নে যেমন কোনো ভূমিকা রাখেননি, তেমনি সরকারি প্রকল্পগুলোও করেছেন হরিলুট। অন্তত শত কোটি টাকার সরকারি টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পগুলো নিজের পছন্দের লোকজনকে বিলিয়ে দিয়েছেন এমপি বাদশা।

এসব নিয়েও চরম বিরক্ত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ। ফলে নানা চেষ্টা করেও নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে মাঠে নামাতে পারেননি ফজলে বাদশা। উল্টো মেয়র লিটনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে এবং নারী ক্যালেঙ্কারীর ঘটনায় দলের মধ্যে কোণঠাসা হওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে নিয়ে মাঠে নামেন বাদশা। ফলে আরও বিরক্ত হয় মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বাধ্য হয়ে বাদশা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে নিতে প্রশাসন দিয়েও নানা চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এমনকি সিটি করপোরেশনের প্রানেল মেয়র নিযাম উল আযিমকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ভোটের আগের দিন রাতে আটক করানোর ব্যবস্থা নেন। এতে আরও বেশি হিতে বিপরীত অবস্থান তৈরী হয় ফজলে হোসেন বাদশার। যার কারণে নগরীর হাতে গোনা ৫-৬টি কেন্দ্র ছাড়া সবকটি কেন্দ্রে পরাজয় বরণ করতে হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার কাছে।
রোববার ভোট গ্রহণের শেষে যে ফলাফল ঘোষণা করা হয় তাতে দেখা গেছে, কাঁচি প্রতীকে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশা পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯০৬ ভোট। আর নৌকা প্রতীকে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা পেয়েছেন ৩১ হাজার ৪৬৬ ভোট। এই নির্বাচনে ফজলে হোসেন বাদশা ভরাডুবি হয়েছে।
এর আগে ওয়ার্কার্সপার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা ২০০৮ সালে জোটের প্রার্থী হয়েছে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীক পান। তবে সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ফজলে হোসেন বাদশা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে এমপি হন। এই তিনটি নির্বাচনেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাঁর পাশে ছিল।








