রাজশাহীর খবর

পবার সীমান্ত এলাকার প্রতিটি ঘরই যেন একেকটি মাদকের হাট

নিউজ ডেস্ক৩১ জুলাই ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর পবা সীমান্তজুড়ে নৌকা ভরে আসছে ফেনসিডিলের চালান। সীমান্ত এলাকার প্রতিটি ঘরই যেন একেকটি মাদকের হাটে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে আসছে এ মাদকের চালান। যার গডফাদার হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মাস্তানরা।

রাজশাহী হলো উত্তরাঞ্চলের মাদকের স্বর্গরাজ্য। বলা সারা দেশেরই মাদকের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ হয় এই রাজশাহীকে কেন্দ্র করে। দেশের মাফিয়াচক্রের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে রাজশাহীর  মাদককেন্দ্রীক। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্ত পথ দিয়ে আসা হেরোইন ও ফেনসিডিলের ওপর নির্ভর গড়েই উঠেছে এ চক্রটি।

এই চক্রের কয়েক সদস্য রাজশাহী, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রাম শহরে বসে নিয়ন্ত্রণ করে মাদকের বড়বড় চালান। রাজশাহী থেকে কোটি কোটি টাকার চালান যায় ওই 75মাফিয়াদের হাতে। সীমন্তের ফাঁক গলে কেজি থেকে মণকে মণ ঢুকছে হেরোইন। আর লাখ লাখ পিস আসছে ফেনসিডিল। এগুলো সীমান্তপথ পার হয়েই পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের সহায়তায় যাচ্ছে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিছু অংশ বিক্রি হচ্ছে রাজশাহীতেও।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর পবা সীমান্ত এলাকা হয়ে মাদকের চালানের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে রাজশাহীর পবা সীমান্ত এলাকা হয়ে প্রতি অন্তত কোটি টাকার ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে রাজশাহীতে।

পবার চির থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকার প্রতিটি ঘরই যেন একেকটি মাদকের হাটে পরিণত হয়েছে।

একাধিক সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, পবা উপজেলার হরিপুর থেকে দক্ষিণের বাঘা সীমান্তের প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সীমান্ত পথে ফেনসিডিলের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে কয়েক বছর ধরে। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা, সাহাপুর, টাঙ্গন, চারঘাট, মীরগঞ্জ, আলাইপুর পথে প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ফেনসিডিল আসলেও এর সামান্যই আটক হচ্ছে।

পবার কয়েকজ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজশাহী শহরে বসেই এসব মাদকের নিয়ন্ত্রণ করছে। 4আবার কেউ কেউ এলাকায় থেকেও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ রেখেছে।কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ফেনসিডিল আসছে পবার সীমান্ত এলাকা দিয়ে। রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে এখন যে পরিমাণ ফেনসিডিল ঢুকছে-তার অন্তত ৮০ ভাগই আসছে পবার সীমান্ত হয়ে-সিল্কসিটি নিউজকে এমনটিই নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।

তাদের দেওয়া তথ্য মতে, পবার ফেনসিডিল কারবারিদের মধ্যে পবার কামাল হোসেন, ইসাহাক আলী, ভোকা মিলন, মিজান, হাসান, মুনসুর, কামু, আয়নাল, বাবলু, শাহিন ও সাউন। এরা সবাই এক সময়ের দিনমজুর থেকে এখন কোটিপতি বা লাখোপতি।

  • এদের মধ্যে ভোকা মিলন রাজশাহীতে বাড়ি ভাড়া করে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে পবার ফেনসিডিল ও ইয়াবা চালানের ব্যবসা। আর ইসাহাক, হাসান, মিজান, কামালসহ অন্যরা সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখে করছে ফেনসিডিলের ব্যবসা।

এদের কারো কারো বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পলতাক হিসেবে মামলাতে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর বাইরেও রয়েছে আরো কয়েক শ ছোট-বড় মাদক ব্যবসায়ী। বিশেষ করে এই সময়ে মৌসুমী কিছু ব্যবসায়ীও গজে উঠে অর্থের লোব সামাল দিতে না পেরে। ফলে পবার হরিপুর, বেড়পাড়া, কাশিয়াডাঙ্গা, মুরারিপুর, চর খিদিরপুর, চর মাঝাড়দিয়ারসহ সমীন্ত এলাকাজুড়ে এখন মাদকের যেন স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

শনিবার সকালে পবার মুরারিপুরের এক ব্যাক্তি সিল্কসিটি নিউজকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ভাই আমাদের বাঁচান। মাদকের থাবায় আমরা সন্তান gournadi-phensidileনিয়ে বিপদে আছি। আশেপাশের সব বাড়িতে ফেনসিডিল-ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনসিডিল ঘরে ঘরেই ঢুকে গেছে। এই অবস্থায় নিজের সন্তান কখন মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়বে ভয়ে আছি। আমাদের এই সমস্যাগুলো নিয়ে আপনারা লিখেন……..বলতে থাকেন ওই ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রতি মাসে স্থানীয় থানা পুলিশকে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ দিয়ে এসব মাদক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা অনায়াসে করে যাচ্ছে। আবার স্থানীয় আওয়ামী লগের নেতাদেরও ম্যানেজ করতে হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের। কোনো কোনো আওয়ামী লীগের নেতাও জড়িয়ে পড়েছেন এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে।

পবার বেড়পাড়ার আরেক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসিক টাকা না পেলে নাকি পুলিশের লোকজন আসে। তখন নামেমাত্র কিছু ফেনসিডিল উদ্ধার করে মাদক ব্যভসায়ীদের পলাতক আসামির খাতায় নাম দিয়ে মামলা করে। আর টাকা পেলে পুলিশ ঘুরেও তাকায় না এদিকে।

ওই ব্যক্তি অভিযোগ করে আরো বলেন, কখনো মাদক ব্যবসায়ীর নামে মামলা না করে পুলিশ হয়রানি করতে ও অর্থ আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষের নামেও মামলা দেয়। কিন্তু পার পেয়ে যায় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পবা থানার ওসি শরিফুল ইসলামের কাছে তার এলাকার মাদক নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ভাগ খাচে-এটা ঠিক নয়। আমরা মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছি। ফলে কিছু কিছু মাদক উদ্ধারও হচ্ছে।’

স/আর