রাজশাহীর খবর

রাজশাহীর আরবান হেলথ কেয়ার থেকে নবজাতক চুরি

নিউজ ডেস্ক২০ জানুয়ারি ২০১৭২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃ সদন আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার থেকে একটি নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পিতবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে। তবে সেটি জানাজানি হয় আজ শুক্রবার সকালে।

 

এ ঘটনায় নবজাতকটির নানী রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত এক নারীসহ দুজনকে আসামি করে নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ওই নবজাতকটিকে আর উদ্ধার করা যায়নি।

 

পুলিশ ওই ক্লিনিকের এক নার্স এলিজাবেথ ও মামলার প্রধান আসামি তহুরা বেগম (৪৬) নামের এক নারীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে নার্স এলিজাবেথকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

 

প্রসূতি মুক্তি খাতুনের ওই নবজাতকটি আর পাওয়া যায়নি। মুক্তি রাজশাহীর পবার চর শ্যামপুর এলাকার রাজমিস্ত্রী নাসির উদ্দিনের স্ত্রী। এ ঘটনার পরে মুক্তি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

 

পুলিশ নবজাতকটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেছেন নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান।

 

তিনি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, নবজাকটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

নবজাতকটির মামা শহিদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার মুক্তি খাতুনের প্রসব বেদনা ওঠে। এসময় নগরীর দাশপুকুর এলাকার হুমায়ন কবিরের স্ত্রী ও আরবান হেলথ কেয়ারের মাঠকর্মী তোহুরা খাতুন অজ্ঞাত এক নারীকে নিয়ে মুক্তির বাড়িতে যান। অজ্ঞাত ওই নারী দরিদ্র প্রসূতিদের নিয়ে কাজ করছেন বলে এসময় জানান।

 

অজ্ঞাত ওই নারী এবং তার সহযোগী তহুরার কথামতো প্রসূতি মুক্তি খাতুনকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর নদাপাড়া আরবান ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন মুক্তি। সিজারের প্রাথমিক খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা আরবান ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে প্রদান করেন অজ্ঞাত ওই নারী।

 
মামলার বাদী ও নবজাতকটির নানী রোজিনা খাতুন জানান, নবজাতকটি জন্ম নেওয়ার আগ থেকেই মামলার প্রধান আসামি তোহুরা বেশ কয়েকবার প্রসূতির বাড়িতে যান। প্রসব বেদনা ওঠার দিনই তোহুরা অজ্ঞাত ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তোহুরা মুক্তিদের বাড়িতে যান এবং নবজাতক জন্ম নেওয়ার পরও তোহুরা এবং অজ্ঞাত ওই নারী ক্লিনিকেই ছিলেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে নবজাতকটির নানী ঘুমিয়ে পড়লে তার নিকট থেকে নবজাতকটিকে নিয়ে দাদীর কাছে রাখার কথা বলে অজ্ঞাত ওই নারী সটকে পড়েন।

স/আর