আন্তর্জাতিক

সে আমার কেনা বউ’

নিউজ ডেস্ক২৫ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

‘সে আমার কেনা বউ।  ৬ লাখ ৩০ হাজার রুপি দিয়ে কিনেছি তাকে। তারপর বিয়ে করেছি।’ ১৩ বছরের কিশোরীকে ২০ বছর বয়স দেখিয়ে বিয়ে করা এক প্রতারক স্বামী তার স্ত্রী সম্পর্কে এ কথা বলেছেন।

কিশোরীর অভিযোগ, তাকে কেনার পর লোক দেখানো বিয়ে করে তার ওপর নির্মম নির্যাতন করেছে লোকটি। দীর্ঘ ১০ মাস ঘরে লুকিয়ে রেখে তার ওপর বর্বরতা চালাচ্ছে সে।

এই কিশোরীর জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নিষ্ঠুর নিপীড়নের ঝড়ের কথা জানতে পারে পুলিশ। ভারতের মহারাষ্ট্রের নালা সোপারা শহরের একটি তল্লাশি চৌকিতে গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে কিশোরীটি। তার পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে সে।

১৩ বছরের জীবনে হাজার কাহন কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে এ কিশোরীকে। ১০ মাস আগে লাছারাম কৃপারাম চৌধুরীর হাতে পড়ে সে। কৃপারামের বয়স তখন ৩৫ বছর।

কিশোরীটির পৈত্রিক বাড়ি রাজস্থান রাজ্যের পালি জেলার রাঙ্গাম গ্রামে। এতটুকু বয়সে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ রুপিতে তিন বার বিক্রি হয়েছে সে। কৃপারাম চৌধুরী তৃতীয় ব্যক্তি, যে শেষবারের মতো তাকে কেনে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এখানেই শেষ নয়।

কিশোরীর বর্ণনায় উঠে এসেছে তার জীবনের করুণ কাহিনি। নালা সোপারার পূর্ব এলাকায় অভিজাত সন্তোষ ভবনের পাশে একটি বাড়িতে ১০ মাস আটকে রাখা হয় তাকে। এর অদূরে রয়েছে তুলিঞ্জ পুলিশ স্টেশন।

তার জীবনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পূর্ণ বিবরণ শোনার আগেই অনেকে চমকে যেতে পারেন, যেমনটি গিয়েছিলেন পুলিশ সদস্যরা। বয়স তার মাত্র ১৩ বছর। এর মাঝামাঝি সময়ে মারা যান তার মা। দুই-তিন বছর ঘুরতেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন তার বাবা। পরে তিনিও মারা যান। সে তখন সৎমায়ের সম্পত্তিতে পরিণত হয়। সৎমা ও দুই সৎভাই ছাড়া আর কেউ ছিল না তার। কোথাও যাওয়ার জায়গাও ছিল না। সৎ মায়ের বাড়াবাড়ির মধ্যে তাদের সঙ্গে থাকতে হয়েছে তাকে। দুর্বিসহ ছিল সে দিনগুলো।

গত বছরের সেপ্টম্বর মাসের কথা। কিশোরীটির সৎমার নাম শান্তি। কৃপারামের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেন তিনি। কিন্তু তার বয়স ১৩ হওয়ায় বিয়ে দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। অবৈধ উপায়ে তার বয়স সংশোধন করেন সৎমা। তারপর হয় বিয়ে। কিন্তু এর আগেই তার অগোচের সৎমায়ের হাতে চলে যায় ৬ লাখ ৩০ হাজার রুপি। সৎমেয়েকে বিক্রি করে রাতারাতি লাখপতি বনে যান শান্তি।

রাজস্থানের গ্রামে থাকার সময় শান্তি তার সৎমেয়েকে দুই বার বিক্রি করেন। প্রথম বার ৫০ হাজার রুপিতে এবং দ্বিতীয় বার ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপিতে তাকে বিক্রি করেন শান্তি। কৃপারাম চৌধুরী শান্তিকে ৬ লাখ ৩০ হাজার রুপি দিতে চাওয়ায় আগের ব্যক্তির কাছ থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে এনে তৃতীয় বার বিক্রি করে দেন তিনি।

বিয়ের পর ক্রীতস্ত্রীকে নিয়ে নালা সোপারায় চলে আসেন কৃপারাম চৌধুরী। সেখানে তিনি একটি মুদির দোকান দেন। কিন্তু স্ত্রীকে ভাড়া বাসার একটি ছোট্ট কক্ষে দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। তাকে বাসা থেকে বের হতে দেননি কখনো।

নানা অত্যাচারে নিষ্পেষিত কিশোরী শনিবার তাকে নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রের কথা শুনে ফেলে। তার স্বামী আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলছিলেন। কৃপারাম তার হাঁকায় ১৫ লাখ রুপি। তাকে নিয়ে দরকষাকষি চলছিল। তখনই সে সিদ্ধান্ত নেয়, এমন জীবন থেকে তাকে বের হয়ে আসতেই হবে। ওই দিন রাতে সুযোগ তৈরি করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং পুলিশের কাছে গিয়ে তার জীবনের নিদারুণ কষ্টের গল্প তুলে ধরে।

কিশোরীটির দায়িত্ব এখন সরকার নিতে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, জীবনের নতুন দিশা খুঁজে পাবে সে।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।

সূত্র: রাইজিংবিডি