রাজশাহীর খবর

রাসিকের ২০০ কোটি টাকার টেন্ডারে শুরুতেই অনিয়মে প্রধান প্রকৌশলী

নিউজ ডেস্ক৭ অক্টোবর ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগররীতে ফ্লাডলাইট স্থাপনেরর নামে সিটি করপোরেশনের ব্যাপক অনিয়মের অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। করোনাকালীন সময়ে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ১৬টি হাইমাস্ট লাইট (ফ্লাডলাইড) স্থাপনের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ২০০ কোটির টেন্ডার আহ্বানে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদটি শূন্য থাকলেও ওই পদের বিপরীতেই ৮টি প্যাকেজে গত ৫ অক্টোবর ওই টেন্ডারটি আহ্বান করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি টেন্ডারের বিপরীতে ঠিকাদাররা এখন অঘোষিত দুই ভাগ টাকা আদায় করে থাকেন কার্যাদেশ দেওয়ার আগেই। আর সেই টাকা আদায় করতেই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশীতে পদোন্নতি পাওয়া প্রকৌশলী খায়রুল বাসার তার আগের পদের বিপরীতে টেন্ডারগুলো আহ্বান করেন।

রাসিক সূত্র মতে, নিয়ন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর নিচের প্রকৌশলীরা টেন্ডার আহ্বান করবেন। সেই হিসেবে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বা নির্বাহী প্রকৌশলীরা ৮টি প্যাকেজে প্রায় ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহ্বান করার কথা ছিলো। কিন্তু ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য তাদের নিকট থেকে অঘোষিত দুই ভাগ টাকা আদায় করতে প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল বাসার তাঁর আগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে ওই টেন্ডারগুলো আহ্বান করেন। আর এটি করতে গিয়েই তিনি এই টেন্ডারের শুরুতেই বড় ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। যা পাবলিক প্রকিউরমেন্টের শর্তও ভঙ্গ করেছেন।

রাসিকের কয়েকজন ঠিকাদার জানানন, ‘নগরীর রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার এবং নির্মাণের কাজের জন্য ৮টি প্যাকেজে প্রায় ২০০ কোটি টাকা এই টেন্ডারটি আহ্বান করার কথা ছিলো নির্বাহী প্রকৌশলী পদের কোনো প্রকৌশলীর। কিন্তু সেটি করতে দেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশী খায়রুল বাসার। তিনি ক্ষমতার জোরে তাঁর আগের পদের বিপরীতে ওই টেন্ডারগুলো আহ্বান করেন। অথচ পদটি এখন শূন্য হয়ে আছে। কাজেই এই টেন্ডারটির কার্যক্রম শুরুতেই অবৈধ হয়ে গেছে। উন্নয়নকাজের নামে লুটপাটের আশায় ওই ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এটি করেছেন বলেও দাবি করেন রাসিকের একাধিক সূত্র।

এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ফ্লাডলাইট স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ১৬টি ফ্লাডলাইট স্থাপনের জন্য ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। যেটি অস্বাভাবিক ব্যয়। এ কাজ করতে সর্বোচ্চ গুনগত মাণের জিনিসপত্র দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হলেও ৩ কোটি টাকার ওপরে ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেখানে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারকে দিয়ে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। যেটি করতে গিয়ে অন্তত ৬ কোটি টাকা লোপাটট করা হয়েছে এই করোনাকালীন সময়ে। এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য গত রবিবাারর দুদকের তিন সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম সিটি কর্পোরেশনে অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করেছে।

অভিযানকালে টেন্ডারের শর্তানুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার সনদ দুদক টিমকে দেখাতে পারেনি রাসিক কর্তৃপক্ষ। বিদেশ থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির শিপমেন্ট ডকুমেন্ট, এলসি, বিল অব ল্যান্ডিং, শুল্ক, কর ও ভ্যাট পরিশোধ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রের অস্তিত্বও মেলেনি।

এছাড়া, কাগজপত্রে দেয়া ঠিকানায় গিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কার্যালয় পাওয়া যায়নি। কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমে ছিলেন সহকারী পরিচালক আল আমিন ও নাজমুল হুসাইন এবং পরিদর্শক আমির হোসেন।

সূত্র মতে এই কাজের অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন খায়রুল বাসার এবং বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী রেয়াজাত হোসেন রিটো। তাদের দু’জনের যোহসাজসেই এই ভয়াবহ দূর্নীতিটি করা হয়।

এদিকে নতুন ৮টি টেন্ডার আহ্বানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি কেেছন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল বাসার কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হলেও আমার মূল পদ হলো তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। সে কারণেই ওই পদের বিপরীতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।’

স/আর

ট্যাগ: