নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোর শহরের কানাইখালি এলাকার যুবলীগের কর্মীকে মাদকাশক্ত অবস্থায় তুলে নেওয়া হয়েছিল রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া এলাকা থেকে। পুঠিয়ার শেষ এবং চারঘাটের শুরু এমন একটি গ্রাম নিমপাড়া থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে যায় একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দুটি গাড়ীতে করে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল সাদা মাইক্রো এবং অপরটি ছিল কালো রং-এর।

গত শনিবার রাত ১১টার দিকে তাদের চারঘাটের নিমপাড়া গ্রাম থেকে তুলে নেয় একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের রঘুনাথপুর গ্রামের কলাবাড়ী এলাকার একটি আমবাগান থেকে গত সোমবার সকালে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনজনের কপালেই গুলির গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। পুলিশের ধারণা মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুব কাছ থেকে তাঁদের গুলি করা হয়েছে।
- নিহত ওই তিনজন হলেন, নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে রেদওয়ান আহমেদ সাব্বির (৩২), মাওলানা লুতফর হাজির ছেলে আবু আব্দুল্লাহ (৩০) ও উত্তর চৌকিরপাড়া এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে সোহেল আহমেদ (৩২)। সাব্বির নাটোর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বাকি দুজন পৌর যুবলীগের কর্মী।
স্থানীয় এবং দুই চারঘাট ও পুঠিয়া থানা পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। চারঘাটের নিমপাড়া এলাকা থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নাটোর পৌর যুবলীগের ওই তিন নেতাকর্মীকে।
- শনিবার রাত ১১টার দিকে চারঘাটের নিমপাড়া এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ফেনসিডিল খেয়ে ফেরার পথে একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়ীতে তুলে নেয়। এসময় স্থানীয়রা অপহরণকারী মনে পুঠিয়া ও চারঘাট থানায় ফোনও করেন।
পরে পুলিশ খবর নিয়ে জানতে পারে মাইক্রোতে তুলে নেওয়া দলের সদস্যরা অন্য কেউ নন। একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এরপর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূরে এগোইনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরো বলছে, চারঘাটের ওই গ্রামটিতে মাঝে-মধ্যেই ফেনসিডিল খেতে যেতেন নাটোর পৌর যুবলীগের নিহত ওই তিন নেতাকর্মী। তারা পুঠিয়ার ভিতরের একটি রাস্তা দিয়ে ওই গ্রামে গিয়ে মাদক সেবন করে আবার চলে যেতেন।
শনিবার রাত ১০টার দিকেও ওই তিনজন যুবলীগ নেতা সাব্বিরের নেতৃত্বে নিমপাড়া গ্রামে যান ফেনসিডিল পান করতে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সদস্যরা তাদের গতিবিধ লক্ষ্য করে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ীতে তুলে নেয়। এরপর পুঠিয়া বাজার হয়ে ঝলমলিয়া দিয়ে নাটোরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঝলমলিয়া বাজারে কিছু সময়ের জন্য অপেক্ষাও করা হয়।
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঝলমলিয়া বাজারে অপেক্ষা করার সময় স্থানীয় দুটি মাইক্রোতে কয়েকজন লোককে বসে থাকতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসীর মনেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এসময় তারা কয়েকজন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকেও বিষয়টি জানান।
পরে ওই নেতা থানাসহ বিভিন্ন স্থানে ফোন করেন। তবে তাঁকেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় মাইক্রোর ওই যাত্রীরা একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। নাটোরের তিনজনকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় ঝলমলিয়া বাজারে দায়িত্বরত টহল পুলিশের সদস্য কেন তিনজনকে আটক করা হয়েছে, জানতে চাওয়ায় এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ওই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কথাকাটকাটিও হয়।
- কিছুক্ষণ পরে যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে নিয়ে নাটোরের দিকে রওনা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সদস্যরা। এরপর নাটোরের তকিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়া যুবলীগের ওই তিন নেতাকর্মীকে। এরই মধ্যে মোটরসাইকেলটিও সঙ্গে নিয়ে যান র্যাব সদস্যরা। এরপর সেখানে মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে পরে আবার তাদের নিয়ে চলে যায় ওই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
যদিও নিহত সাব্বিরের মা মা রুখসানা বেগম গত রবিবার নাটোর সদর থানায় দায়েরকৃত জিডিতে উল্লেখ করে তকিয়া বাজার থেকে তাঁর ছেলেসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে যায় একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
- এদিকে পুঠিয়া থানার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ৬-৭ মাস আগেও ফেনসিডিল পান করে বাড়ি ফেরার সময় পুঠিয়া থানা পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। পরে আদালত থেকে জামিনে বের হন সাব্বির। জামিনে বের হওয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে পুঠিয়া হয়ে চারঘাটে ফেনসিডিল পান করতে যেতেন সাব্বিরসহ তাঁর সাঙ্গ-পাঙ্গরা।
তবে নিমপাড়া থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট থানার ওসি নিবারন চন্দ্র দাস বলেন, ‘এই ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমি শুনিনি। যদি ঘটে থাকে, তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
এদিকে নাটোরের একাধিক সূত্র বলছে, নিহত তিন যুবলীগের নেতার্মীর মধ্যে সাব্বির ছিলেন দুর্ধর্ষ ক্যাডার। এর আগেও তাকে একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছিল। ওই সময়ি এমপি শিমুল তাকে ছাড়িয়ে নেয় জোর করে।
এই ক্যাডার সাব্বিরের মৃত্যুর পরে নাটোরের সাধারণ মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন একাধিক সূত্র। যদিও সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ভয়ে অনেকটা সাবধানে চলাফেরা করতেন।
স/আর









