রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে জেঁকে বসছে শীত: বাড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক৬ ডিসেম্বর ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া সঙ্গে কুয়াশা গত ‍দুদিনে হাড়কাঁপুনি শীত নামিয়েছে রাজশাহীতে। এতে করে গত সোমবার থেকে হঠাৎ করে থমতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পরিমাণও। আজ মঙ্গলবার সকালে এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

হঠাৎ জেঁকে বসা তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসের অনেকটা দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে রাজশাহীর ছিন্নমূল মানুষরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তারা ঠান্ডা তাড়াতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে সাময়িকভাবে একটু প্রশান্তি খোঁজারও চেষ্টা করছেন।

rajshahi-photo-20-01-16-20-copy

  • রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে বাতাসের আর্দতা ছিল ৯৮ ভাগ।অনেকটা কুয়াশায় ঢাকা ছিল রাজশাহী চারিদিক।

 

সকাল নয়টার দিকে এ রিপোর্ট লেখারও সময় কুয়াশা ছিল। আকাশে তখনো দেখা মেলেনি সূর্যের। এতে করে হিমেল বাতাসে ঠান্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন। কুয়াশার কারণে গাড়ীর হেড লাইটগুলো জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘গতকাল সোমবার ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আজ আবহাওয়ার যে গতিবিধি তাতে সর্বোচ্চ তামাত্রা ২৫ ডিগ্রি ছাড়াবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।

 

লতিফা হেলেন আরো বলেন, ‘গত রবিবার রাজশাহীর তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন তেমন কুয়াশা এবং বাতাসও ছিল না। কুয়াশা এবং বাতার বাড়তে থাকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত। আগামী কয়েকদিনে কুয়াশা ঘন কুয়াশায় রুপ লাভ করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে।’

rajshahi-photo-08-01-2013-25-copy

এদিকে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশা প্রবাহে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে এসব মানুষরা শীতে অনেকটা কাতর হয়ে পড়েছেন।

 

  • শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুরোতে শিশু এবং বৃদ্ধরা পড়েছে শীতে প্রচণ্ড বিপাকে। গরম কাপড় না পাওয়ায় শীতে আক্রান্ত হয়ে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছে। ফলে বাড়ছে শীতজনিত রোগের মাত্রাও।

এছাড়া সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা  গেছে। তবে সরকারি, সেবরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণও শুরু হয়নি বলেও জানা গেছে। ফলে দুর্গত মানুষরা নিজেদের প্রচেষ্টায় কোনো মতে দুর্ভোগ কাটাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আগামী কয়েকদিনে শীত আরো বাড়লে এসব মানুষদের ভোগান্তিও বাড়বে ব্যাপক হারে।

rajshahi-photo-20-01-16-25-copy

নগরীর ছোট বনগ্রাম বস্বিতর বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘শীত তো ছিলই না। দুদিন ধরে হঠাৎ করে এলো। কিন্তু এই শীত তাড়ানোর কোনো কাপড় আমাদের বাড়িতে নাই।’ গরম কাপড় ছাড়া এই ঠান্ডা বাতাস তাড়াবো কি করে-প্রশ্ন করেন হযরত আলী।

 

  • নগরীর দড়িখরবোনা রেল লাইনের পাশে বসবাস করেন আলেয়া বেগম। পরিবারে স্বামী-সন্তান মিলে ৬ সদস্য তার। পরের বাড়িতে কাজ করেন আলেয়া। আর স্বামী রিকশা চালান। তাতে কোনো মতে দিন এনে দিন খায় অবস্থায় কেটে যায় তাদের জীবন। কিন্তু শীত তাড়াতে যে গরম কাপড়ের প্রয়োজন হয়-তা প্রতি বছর চেয়ে থাকতে হয় অন্যের ভরসার ওপর। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত আলেয়াদের কপালে জুটেনি শীতের কাপড়।

 

আলেয়া বলেন, গত বছর দুটি কম্বল পেয়েছিলাম। ওই কম্বল গায়ে দিয়ে রাত কাটায়। কিন্ত দিনের বেলায় তো আর কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায় না। দিনে কাজে বের হলেই শীতে কাঁপতে হচ্ছে। এখন প্রয়োজন গরম কাপড়। আমাদের কম্বলের প্রয়োজন নাই। কিন্তু টাকার অভাবে কিনতে পারছি না। ফলে বাড়িতে দুজন শিশু থাকলেও তারাও কষ্টে দিন পার করছে।’

 

  • সরেজমিন মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী নগরীতে ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে শীতের কবলে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেকেই গরম কাপগড় না পেয়েই বিছানার কম্বল গায়ে দিয়েই বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে। আবার অনেক রিকশা চালককে গত বছরের ছেঁড়া-ফাটা কাপড় পরে রিকশা চালাতে দেখা যায়।

 

কাউকে কাউকে তেমন কোনো গরম কাপড় ছাড়ায় শীতের মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে কাজের সন্ধ্যানে ঘুরতে দেখা যায় এ নগরীতে।

 

স/আর