রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে বৃত্তির ফল জালিয়াতি: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক২০ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে গতকাল নগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট ‘সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
‘বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে সংগঠনের আহবায়ক ফারুক হোসেনসহ বক্তব্য রাখেন অভিভাবক আমিনা আনসারী, আবু জাফর, মিঠন আলী সরদার, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

 

  • বক্তারা বলেন, এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামে শুধু বিভাগীয় মামলা করলেই হবে না, তাদের ফৌজদারী কার্যবিধি আওতায় তাদের নামে মামলা করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

তারা বলেন, শিক্ষক নামধারী কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিজেদের ক্লাস বাদ দিয়ে থানা শিক্ষা কার্যালয়ের দালালি করেন। তাদের হুসিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, এই নোংরামি করে শিক্ষকের মর্যাদা নষ্ট করবেন না। শিক্ষকের নামটি কলঙ্কিত করবেন না।

 

নেপোলিয়নকে উদ্ধৃত করে অভিভাবক আমিনা আনসারী বলেন, ‘একজন শিক্ষিত মা দাও আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেন।’ থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী একজন নারী, একজন মা হয়ে কীভাবে এই কাজ করেছেন, তা ভাবলেও বিস্মিত হয়। তিনি এই অপরাধীরা যাতে কোনো পার পেয়ে না যায়, জন্য রাজশাহীবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।

সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ এর আহবায়ক ফারুক হোসেন বলেন, টাকার জন্য যারা কোমলমতি শিশুদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ব্যবসায়ে নেমেছেন, তারা হচ্ছে শিক্ষা সন্ত্রাসী। একজন সন্ত্রাসী হয়তো একজন  মানুষকে খুন করতে পারে কিন্তু এই শিক্ষাসন্ত্রাসী জাতিকেই খুন করছে। শিক্ষাই যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়ে থাকে। তাহলে এরা জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

 

তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যুগে যুগে তদন্তের ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এই সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। আশা করা যায় এ সরকারের আমলে অপরাধীরা পার পাবে না। তাদের সুষ্ঠু বিচার হবে। আর তা না করে তাহলে বলতে হবে তারা শুধু মুখেই শিক্ষার বুলি আওড়ায়। তারা জনগণের কাছে ধরা থাকবে।

 

তিনি বলেন, গত সমাপনী পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটেছে। এক বছর পার হয়ে গেল। আর একটি সমাপনী পরীক্ষা আজ শুরু হলো। আমরা এর সুরাহা করতে পারিনি। এই লজ্জা রাখার জায়গা নেই।  আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আগের ফলাফল বাতিল করে সংশোধিত ফল প্রকাশ করতে হবে। আর ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আগামী এক সপ্তাহ পর রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবার স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

  • গত জুলাই মাসে রাজশাহীতে এসে এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুল ইসলাম তদন্ত করেন। তিনি গত ১৭ জুলাই মহাপরিচালকের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

 

এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা আবুল কাশেম, তৎকালীন বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী ও অফিস সহকারী সোনিয়া রওশনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

স/আর