রাজশাহীর খবর

চাঁদার দাবিতে রোগীকে মারপিটের অভিযোগে রামেক ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা

নিউজ ডেস্ক১ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অপারেশনের টাকা না দেওয়ায় রোগীকে মারধোরের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর রাজশাহী চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ‘খ’ অঞ্চল আদালতে দ- বিধির ৪১৯/৩২৩/৩২৪/৫০৬/৪২৭/১১৯/১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন জেলার বাঘা উপজেলার বাসিন্দা ও রোগী মাইনুল ইসলাম। আদালত মামলাটি  আমলে নিয়ে  রাজপাড়া থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

 

তবে রোগীকে চাঁদার দাবিতে মারপিট করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছেও উনি করেছেন। কিন্তু ঘটনার কোনো সত্যতা না পাওয়ায় এ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

 
অভিযোগ সূত্র জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে জ্বর ও পেটে ব্যথার কারণে রামেক হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন বাঘা উপজেলার কুশাবাড়িয়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মাইনুল ইসলাম। এরপর প্রথমে ডাক্তার এবং পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র পরিচয় দিয়ে অপারেশন করতে হবে বলে দুই হাজার টাকা নেন আসামি লুৎফর রহমান। রোগীর কাগজপত্র নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরাফেরা করে অপারেশনের সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে বলে আবারো তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন ওই ডাক্তার। কিন্তু বাদী মাইনুল অপরাগতা প্রকাশ করলে তাঁকে নানাভাবে গালিগালাজ শুরু করেন লুৎফর রহমান।

 
এরপর রাত সোয়া ১২ টার দিকে চাকু ও হাতুড়িসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন লুৎফর। এতেও অপরাগতা প্রকাশ করলে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে তাঁকে চর, থাপ্পর, ঘুঁষি মারতে থাকেন লুৎফর এবং তার সহযোগীরা। লুৎফর হাতুড়ি দিয়ে মাইনুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় রোগী মাইনুলের চিৎকারে ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত লোকজন এগিয়ে লুৎফর তাঁর সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর টাকা না দিলে এবং কাউকে অভিযোগ করলে প্রাণ নাশের হুমকি দেন ওই ডাক্তার।

 
অভিযোগে বলা হয়, ডাক্তারের মারপিটের পর শরীরে ব্যথা অনুভব করলে এবং অন্যান্য রোগীর স্বজনেররা হৈচৈ শুরু করলে রামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য পানাউল্লাহ’র সহযোগীতায় মাইনুল ইসলামকে আবারো ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

 
এদিকে রোগীয় মাইনুল ইসলামকে মারপিটের বিষয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার ও অন্যান্যদের জানালেও তারা কিছু করতে পারবে না বলে জানায়। পরে হাসপাতালের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের কাছে কোনো বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদী মাইনুল ইসলাম।

 
মামলাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার এসআইস তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি গত ২৬ অক্টোবর থানায় এসেছে। এরপর সেটি রেকর্ড করে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স/আর