নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগরীর সেখেরচক বিহারীবাগান এলাকায় পদ্মানদীর তীরবর্তী এলাকার সড়কে ধস নেমেছে। এর ফলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৈরী করা রাস্তার প্রায় ২০০ মিটার সড়কে ধস নেমেছে। এই রাস্তার মূল সড়ক থেকে প্রায় ছয় হাতের মতো পদ্মানদীর দিকে নিচু হয়ে দেবে গেছে।

এই ধসের কারণে রাস্তার ধার ঘেঁষে নির্মিত প্রায় ২০টি মত বাড়ির ২০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয় আশঙ্কা রয়েছে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার। এরি মধ্যে এলাকাবাসী দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কিছু দিন আগে প্রতিবেদশ দেশ ভারত থেকে আসা পানির কারণে নদীর পানি বেড়ে যায়।এর ফলে তীব্র বন্যার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকয় পদ্মানদীর পানি প্রবেশ করে। পানি বা ব্লক সরে যাওয়ার জন্য সড়কের ধস নামে নি। সড়কের নিচে থাকা আর্বজনা পচে গিয়ে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার সকালে সরজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০০ মিটার সড়কে ধস নেমে মূল সড়ক থেকে ছয় হাতের মতো দেবে গেছে। এতে ২০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দশটি বাড়ি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। সড়কের স্থানে স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। দেবে যাওয়া অংশ ছাড়াও মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানেও দেখা দিয়েছে ফাটল।

এছাড়া সড়কের পাশের মাটিতেও দেখা দিয়েছে ফাটল। দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে বাঁশ দিয়ে বেঁধে দিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দা সাদেজা বেগম সিল্কসিটিনিউজকে জানান, আমার বাড়ির একদম সামনে বিশাল যায়গা ভেঙে গেছে। গত এক সপ্তাহ আগে থেকে এই এলাকায় ফাটল দেখা দেয়।
প্রতিদিন ফাটলের পরিমান বাড়তে থাকে। এ ফাটল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধসও নামেতে শুরু করে। গতকাল শনিবার ধস নামার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন না থাকলে এতক্ষণে বাড়িগুলো ভেঙে পড়ে যেত। এর আগে গত বছরেই বর্ষার সময় পদ্মার তীর রক্ষার ব্লক ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। ধারে একটা ব্লকও নেই। এবছর বর্ষার সময় মূল সড়কে ফাটল থাকা সত্ত্বেও পাশ দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে রাসিক ।
এ ধসের কারণে সড়কের ধার ঘেঁষে নির্মিত সাজেদা, সৌরভ, কালাম, আলমগীর ও খোকনের বাড়ি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। ওই এলাকার অন্য বাড়িগুলোও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। রাসিদা মনিরা বেগম বলেন, সড়কের ধার ছাড়া ভেতরের বাড়ির মধ্যেও দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রতিটি মিনিটে যেভাবে সড়কে ফাটল দেখা দিচ্ছে তাতে যেকোনো সময় বাড়িগুলোও ভেঙে পড়বে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ইদরিসের বাড়ি।
ইদরিস বলেন, ‘ভয়ে আমরা ওয়াসার পানি ব্যবহার করতে পারছি না। লাইন বন্ধ করে দিয়েছি। ব্যবহৃত পানি সড়কে মিশে যদি আরো ধস বাড়িয়ে দেয়া এই আশঙ্কায় পানি ব্যবহার করছি না। আতঙ্কে রাতে ঠিকমত ঘুমাতেও পারছি না।’
এই এলাকার আর এক রহিদুল ইসলাম বলেন, গতবছর এই এলাকা থেকে পাড়ের ব্লক সরে গেছে। এরপর আর ব্লক বসানো হয় নি। এবছর ফুটপাত নির্মাণ করার সময় মূল সড়কে ফাটল ছিল। কিন্তু তা মেরামত না করেই পাশে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। ধস নামার পরও সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান সহযোগিতায় এগিয়ে আসে নি। ধসে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে। আর ভেঙে আমাদের বাড়ির ওপর পড়বে। বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশনকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ধস নামা বন্ধ করা না গেলে এলাকার বাড়িঘরও ভেঙে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, সড়ক ধসের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনের কোনো ত্রুটি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। বন্যার পানি তো এক সময় ব্লক ওপর উঠে গিয়ে ছিলো। পানি সরে যাওয়ার জন্য যে ত্রুটি দেখা দিতে পারে তা পাওয়া যায় নি। ওই এলাকার ব্লকগুলো ঠিকমত রয়েছে। তাতে কোনো ধরনের ফাটল ধরে নি।
তিনি আরো বলেন, আমরা ধারণা করছি, সড়কটির নিচ থেকে বর্জ্য পচে ধস নামতে পারে। তাছাড়া এ ধসের কারণে যে অংশের পানির পাইপ ভেঙে গেছে তা মেরামত করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, তিন বছর আগে ওই এলাকায় সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। তখন মাটিতে কোনো সমস্যা ছিল না। রোলার দিয়ে ভালোভাবে মাটি মজবুত করে তারপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আর বাংলাদেশের বেশিরভাগ সড়ক আর্বজনার ওপর নির্মিত। ফলে নিচে আবর্জনার থাকলেও সড়ক দেবে যাবে বিষয়টা এমন না। ওই এলাকায় মাটির ইরোসনের কারণে সড়কটি দেবে যেতে পারে। বন্যার পর এই ইরোসন দেখা দেয়।
স/আ









