নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতকা বিভাগের শিক্ষিকা আকতার জাহান জলি (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ওই শিক্ষিকার শয়নকক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং একটি কীটনাশকের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি সিল্কসিটি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ওই বিভাগের একজন জেষ্ঠ্য শিক্ষক। তিনি জানান, সুইসাইড নোটে শিক্ষিকা আকতার জাহান উল্লেখ করেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আমি এই পথ বেছে নিলাম।’
এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিছানার ওপর মশারির ভিতর পড়ে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ শিক্ষিকা আকতার জাহান জলির লাশ উদ্ধার করে। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।
- রামেক হাসপাতলের চিকিৎসক মহিনুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, শিক্ষিকা আকতার জাহানের মুখে লালা ছিল। ঠোঁটগুলোও কালো হয়ে গেছে। কেমিক্যাল জাতীয় কিছুর অস্তিত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর শিক্ষিকার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাবির একাধিক সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের লোকজন তার সাড়া-শব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আকতার জাহানকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। হাসপাতালে আনার পরে চিকিৎসকরা ওই শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ শিক্ষিকা আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মামুন আব্দুল কাইউম জানান, ৬ তারিখে আকতার জাহানের ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ঢাকায় যাননি।
এরই মধ্যে আকতার জাহানের ছেলে সোয়াদ গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিন মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ঢাকা থেকে ফোন করে একই বিভাগের শিক্ষকদের বিষয়টি জানান। এরপর শিক্ষকরাও আকতার জাহানের মোবাইলে কল করেন। কিন্তু কেউ কল রিসিভ না করায় শিক্ষকদের কয়েকজন এবং রাবির কয়েকজন কর্মকর্তা বিকেল ৫টার দিকে আকতার জাহানের বাসায় যান।
সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ঘরের বিছানার ওপর মশারির মধ্যে পড়ে থাকা অবস্থায় আকতার জাহানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আকতার জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী নাসির হায়দার রানা জানান, কক্ষটি ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে তিনি মারা গেছেন এ ব্যাপারে এখানো কিছু জানা যায়নি।

আকতার জাহান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদের প্রাক্তন স্ত্রী। বছর তিনেক আগে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ঘরের বিছানার মশারির ভেতরে আকতার লাশ পড়ে ছিল। সেখান থেকে একটি কীটনাশকের বোতল এবং সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
স/আর









