সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
পাঁচ জন বিচারপতির মধ্যে তিন জন বিচারপতি তিন তালাক অবৈধ বলে রায় দিল। মুসলিমদের বিবাহবিচ্ছেদের জন্য নতুন আইন তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তিন তালাক নিয়ে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ছ’মাসের জন্য তিন তালাকের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। তার মধ্যে সরকারকে আইন প্রণয়ন করতে হবে। এর মধ্যে আইন প্রণয়ন না করলেও এই স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট দেখতে চেয়েছিল তিন তালাকের নিয়ম মুসলমানদের ধর্মীয় মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে কিনা। এর সঙ্গে ভারতীয় সংবিধানের কোনও সংঘাত রয়েছে কিনা।
গরমের ছুটির সময় সুপ্রিম কোর্টে ৬ দিন ম্যারাথন শুনানির পরে ১৮ মে তিন তালাক নিয়ে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতিরা। পাঁচ জন বিচারকের মধ্যে তিন জন এই রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।
শিখ, খ্রিস্টান, পার্সি, হিন্দু ও ইসলাম— পাঁচ ধর্মের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই বিশেষ সাংবিধানিক বেঞ্চ। এই বেঞ্চে ছিলেন, প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর, বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ, বিচারপতি আর এফ নরিম্যান, বিচারপতি ইউ ইউ ললিত, বিচারপতি আবদুল নাজির।
ছ’জন আবেদনকারী ছিলেন তিন তালাকের এই মামলায়। শায়রা বানো, ইশরাত জাহান, গুলশন পরভীন, আফরিন রহমান, আতিয়া সাবরি ও ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন।
মূল আবেদনকারী ছিলেন উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা শায়রা বানু। আর তিন তালাকের আবেদনের বিরুদ্ধে ছিল মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। যাঁদের বক্তব্য ছিল, ধর্মীয় অধিকারের ব্যাপারে আদালত নাক গলাতে পারে না।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের আইনজীবী কপিল সিবাল শুনানির সময়ে আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, তিন তালাক একটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদালতের উচিত এতে হস্তক্ষেপ করা নয়।
তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতাগি বিচারপতিদের জানিয়েছিলেন, দরকার হলে কেন্দ্র মুসলমানদের বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আলাদা আইন নিয়ে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তিন তালাকের বিরোধিতা করে বক্তব্য রেখেছিলেন। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও তিন তালাক নিয়ে যে মুসলমান মহিলারা লড়াই চালাচ্ছেন তাঁদের সমর্থন জানিয়েছিলেন।









