রাজশাহী

রাজশাহীতে জেন্ডার, বৈচিত্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ে কর্মশালা

নিউজ ডেস্ক১৮ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং মানবাধিকার বিষয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সবার অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজের (বারসিক) আয়োজনে রাজশাহী আঞ্চলিক রিসোর্স সেন্টারের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার প্রথম দিনে জেন্ডার ও বৈচিত্র্য বিষয়ে আলোচনা করেন বারসিকের এগ্রোইকোলজি ও খাদ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস। সমাপনী দিনে আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল আলম এবং বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, নৃবিজ্ঞানী ও পরিবেশ আইন গবেষক শহিদুল ইসলাম।

কর্মশালায় জেন্ডার, জেন্ডারভিত্তিক ভূমিকা ও বৈষম্য, মানবাধিকার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, জেন্ডার চাহিদা, জেন্ডার মূলধারায়ন, জেন্ডার নীতি, জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি এবং অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা দৈনন্দিন জীবন, পরিবার, সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বৈষম্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারী-পুরুষসহ সব মানুষের অধিকার, সক্ষমতা ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে সবার অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি। কোনো কর্মসূচিতে নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদ বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, বয়স, প্রতিবন্ধিতা, জাতিগত পরিচয়, আর্থসামাজিক অবস্থা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে কেউ যেন অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কৃষি, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চায় নারী কৃষকদের অবদান ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, কৃষি উপকরণ ও প্রশিক্ষণে সমান সুযোগ, ন্যায্য বাজারব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা টেকসই খাদ্যব্যবস্থা এবং প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিকল্পনা প্রণয়ন, বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ তৈরি, অধিকারবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিয়মিত পর্যালোচনার সুপারিশ করেন।

কর্মশালায় বক্তারা অভিমত দেন, মানবাধিকার প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। তাই জেন্ডার সমতা, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈষম্যহীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।