রাজশাহী

লেখক স্মৃতি রেখা রায়ের গল্পগ্রন্থ ‘হৃদয়ের গোপন জানালা’র মোড়ক উন্মোচন

নিউজ ডেস্ক১৮ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লেখিকা স্মৃতি রেখা রায়ের অনবদ্য ছোটগল্পের বই ‘হৃদয়ের গোপন জানালা’র মোড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড় সংলগ্ন ‘দেবালয়’ পূজা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির শুভ উন্মোচন ঘটে।

​‘হৃদয়ের গোপন জানালা’ গ্রন্থে লেখিকা সামাজিক জীবনের বিচিত্র অনুভূতি, শ্রেণিভিত্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রতিবন্ধকতা এবং অপ্রাপ্তি ও ভালোবাসার নানা মাত্রা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

বইটিতে সমাজে অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের দীর্ঘশ্বাস ও হতাশার পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমে নিঃসঙ্গ দিনযাপন করা প্রবীণ পিতামাতার হৃদয়ের গহীন আকুতি প্রাজ্বলিত হয়ে উঠেছে। অপ্রাপ্তির মধ্যেও কীভাবে কিছু প্রেম হৃদয়ের গোপন বাতায়নে আলো-বাতাস নিয়ে বেঁচে থাকে, তা-ই এই গল্পসংকলনের মূল উপজীব্য।

​রাজশাহীর এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিবারে ১৯৬৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন স্মৃতি রেখা রায়। বাবা বিমল চন্দ্র মজুমদার ও মা নীলিমা মজুমদারের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি অন্যতম।

বিবি হিন্দু একাডেমি থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি রাজশাহী কলেজ এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন প্রবীণ আবৃত্তিশিল্পী এবং বিশ্ববাংলা সাহিত্য পরিষদের সক্রিয় সদস্য।

​ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ রায়ের সহধর্মিণী এবং তাঁর শ্বশুর ছিলেন তৎকালীন ডিআইজি (প্রিজন্স) নির্মলেন্দু রায়। তাঁর একমাত্র সন্তান দেবজ্যোতি রায় পেশায় একজন প্লাস্টিক সার্জন। স্বামীর পেশাগত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সূত্রে তিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় ২০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন; যা তাঁর সাহিত্যচিন্তা ও জীবনবোধকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের একুশে বইমেলায় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বসন্ত মোহিনী’ প্রকাশিত হয়ে সুধীমহলে প্রশংসিত হয়।

​রাজধানী ঢাকার বাংলাবাজারের ৩৭/১ খাঁন প্লাজাস্থ ‘সপ্তর্ষি’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এবং শিবু ওঝা সম্পাদিত এ বইটি ভারতের কলকাতার কলেজ স্কয়ারস্থ নবধারা পাবলিকেশন ও সপ্তর্ষি কম্পিউটার্স থেকেও একযোগে পাওয়া যাবে।

​উক্ত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সমাজের শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক ও গুণীজনরা উপস্থিত থেকে লেখিকার উত্তরোত্তর সাহিত্য সমৃদ্ধি কামনা করেন।