রাজশাহী

পুলিশ মেধাবৃত্তি পেল রাজশাহীর ৬৯ শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক৮ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদস্যদের ৬৯ সন্তানকে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় আরএমপি পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি ২০২৪ ও ২০২৫-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা মিম তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম, রাত জেগে পড়াশোনা এবং বাবা-মায়ের ত্যাগের ফলেই তিনি এ সাফল্য পেয়েছেন। মেধাবৃত্তি অর্জন তাঁকে আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যুক্ত হন না কেন, পেশাগত পরিচয়ের আগে একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

একজন পুলিশ কনস্টেবল অভিভাবক বলেন, চাকরির ব্যস্ততা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়ায় সময় দেওয়া, ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি। সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে উৎসাহিত করতে হবে। ফলাফল আশানুরূপ না হলেও শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, সহকর্মীদের সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি ও উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ পুলিশ এ মেধাবৃত্তির আয়োজন করেছে। সব বিষয়ে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে এ প্লাস অর্জন করে মেধাবৃত্তি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্জন। মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে অভিভাবকদের অনেক ত্যাগ ও কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ অনেক সদস্য নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন। তাই শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং মা-বাবার ত্যাগের মূল্য দিতে হবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জীবনের একটি ধাপ মাত্র। এখান থেকেই জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সমাজ, দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ফলাফল আশানুরূপ না হওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আরও বেশি পরিশ্রম করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সফলতা অর্জনে শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই। রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করে সময়মতো ঘুমানো ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান পুলিশ কমিশনার।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।