রাজশাহী

আলুর হিমাগার ভাড়া কেজি প্রতি পৌনে ৬ টাকা কার্যকরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে আলু সংরক্ষণের হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজি ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ হিমাগারে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলু ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত ভাড়া দ্রুত কার্যকর করতে হিমাগার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলার তকিপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি লিখিত বক্তব্য দেন। এ সময় সমিতির সভাপতি মো. আহাদ আলীসহ আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কিছু হিমাগার নতুন নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া শুরু করেছে। তবে বেশ কিছু হিমাগার এখনো ৫ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া কার্যকর করেনি। রাজশাহীতে প্রায় ৪০টি হিমাগার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সব হিমাগারে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকরের আহ্বান জানান।

এর আগে গত ২৬ জুলাই আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে গঠিত জেলা কমিটি প্রতি কেজি আলুর জন্য ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করেন। পরে ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সারা দেশের হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করে। তবে রাজশাহীর জন্য জেলা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকে।

ভাড়া নিয়ে বিরোধের মধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর পবার দৌলতপুরের রহমান সিডস্ কোল্ড স্টোরেজে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলীও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

পরে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হিমাগারের ভাড়া ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সব পক্ষকে মেনে চলতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী, কৃষক বা হিমাগার মালিক নির্ধারিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আলুর হিমাগার ভাড়া দ্রুত কার্যকর হবে বলে আমি আশাবাদী। সভার রেজুলেশন ও সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার আলী ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।