নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীতে আরসি অটোমোবাইল অ্যান্ড কারের কর্মী মো. শাহিন আলীকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে একটি ওয়ার্কশপে আটকে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অটোস্পার্কের মালিক রাজু আহমেদ ও তার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নগরীর সপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শাহিন।

শাহিন আলী অভিযোগ করে বলেন : শনিবার ২২ আগস্ট
রাত ১০টার দিকে বিসিকের প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় অটোস্পার্কের ম্যানেজার শুভ ও প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজু আহমেদের চাচা রুস্তম তাকে থামান। কথা বলার কথা বলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে একটি গাড়িতে জোর করে তুলে অটোস্পার্কের সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
শাহিন জানান : তিনি অটোস্পার্কে প্রায় তিন বছর চাকরি করেছেন। দুই থেকে আড়াই মাস আগে চাকরি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। পরে রাজশাহীর সপুরা সিল্কের বিপরীতে আরসি অটোমোবাইল অ্যান্ড কারে মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তার অভিযোগ : অটোস্পার্কের সার্ভিস সেন্টারে নেওয়ার পর তাকে একটি কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে লাঠি, গাছের ডাল ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পাঁজরে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি রাজশাহীতে থাকবেন না এবং ঢাকায় চলে যাবেন বলে জানালে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরসি অটোমোবাইল অ্যান্ড কারের ম্যানেজার সোয়াদ আহমেদ বলেন : শাহিন আলীকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে অটোস্পার্কের মালিক রাজু আহমেদ ও সংশ্লিষ্টরা মারধর করেছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। মারধরের পর শাহিনের কাছ থেকে জোর করে ফাঁকা কাগজে আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সোয়াদ আরও বলেন : শাহিনকে রাজশাহীতে থাকলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাজশাহী ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অটোস্পার্কের মালিক রাজু আহমেদের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি , তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন।
সোয়াদ আহমেদের পক্ষ থেকে শাহিন আলী নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।









