রাজশাহী

স্বামীর মৃত্যুর পর ঋণের টাকা মওকুফ, সঞ্চয়ের ৩৫ হাজার টাকা দিল আশা

নিউজ ডেস্ক১০ আগস্ট ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর আশা সদর ব্রাঞ্চের উদ্যোগে ঋণগ্রহীতা এক সদস্যের স্বামী মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা। স্বামীর মৃত্যুর কারণে সদস্যের ঋণের একটি অংশ মওকুফ করার পাশাপাশি তাঁর জমাকৃত সঞ্চয়ের অর্থও প্রদান করা হয়েছে। গত রোববার (১০ আগস্ট) আশা সদর ব্রাঞ্চ কার্যালয়ে এ ঋণ বীমার অর্থ ও সঞ্চয় ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, ছোট বোনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সদস্য মঞ্জুরা বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম গত ২৯ জুলাই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে আশা কর্তৃপক্ষ সদস্যের ঋণ বীমার আওতায় তাঁর ঋণের ৩২ হাজার ৪০৩ টাকা মওকুফ করে।

একই সঙ্গে সদস্যের নামে জমা থাকা সঞ্চয়ের অর্থ বাবদ ৩৫ হাজার ২৮৫ টাকা তাঁকে প্রদান করা হয়। ঋণের দায় থেকে মুক্তি এবং সঞ্চয়ের অর্থ হাতে পাওয়ায় পরিবারটি আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) আশা সদর ব্রাঞ্চ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য মঞ্জুরা বেগমের হাতে সঞ্চয়ের ৩৫ হাজার ২৮৫ টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ঋণ বীমার আওতায় ৩২ হাজার ৪০৩ টাকা ঋণ মওকুফের বিষয়টিও জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আশা সদর ব্রাঞ্চের রিজিওনাল ম্যানেজার মিজানুর রহমানসহ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আশা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে সদস্য ও তাঁর পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর যখন পরিবারটি আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে ঋণের দায় থেকে মুক্তি এবং দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ায় পরিবারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ বীমার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো সদস্য বা তাঁর পরিবারের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় ঋণের বোঝা কমিয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা পরিবারের আর্থিক ঝুঁকি কিছুটা লাঘব করা সম্ভব হয়।

মঞ্জুরা বেগমের ক্ষেত্রেও স্বামীর মৃত্যুর পর ঋণ বীমার সুবিধা পাওয়ায় তাঁর পরিবারের ওপর থাকা ঋণের আর্থিক চাপ কমেছে। পাশাপাশি সঞ্চয়ের অর্থ হাতে পাওয়ায় পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তা সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আশা সদর ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা বলেন, সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ও দুর্দিনে সহযোগিতা করাই এ ধরনের কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।