রাজশাহী

কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ি করে নগরীতে পুকুর ভরাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে

নিউজ ডেস্ক২৯ জুলাই ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীতে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শাহমখদুম থানা ও ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয়রা। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড অন্তর্গত আমচত্বস্থ বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন আয়োজকরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন বড় বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও শাহমখদুম থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. মামুন হাসান মিলন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহী নগরের আলমাস, ইমরান ও ওয়াহিদ নামের তিন ব্যক্তি দেশের বিদ্যমান আইন উপেক্ষা করে বড় বনগ্রাম এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী পুকুর ভরাট করেছেন। লিখিত বক্তব্যে মামুন হাসান মিলন বলেন, রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ গজ দূরে প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। বড়বনগ্রাম মৌজার জে এল নং: ৮২। প্রায় দেড় বিঘা আয়তনের পুকুরটি ভরাটের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসি।

পুকুরটি ভরাট করার সময় স্থানীয় ব্যক্তিরা বাধা দিলে ভরাটকারীরা তাতে কোন কর্ণপাত করেননি। তারা তাদের পেশিশক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে রাতের আধারে পুকুরটির ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। পুকুর ভরাট বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গত ২ ও ৩ জুন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহমখদুম থানা, জেলা প্রশাসক এবং বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অগ্ৰসর হয়নি। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে দিনের পর দিন ধরে চলা ভরাট কার্যক্রম চলেছে এবং অবশেষে বিশালাকার পুকুরটি কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার বাঁধা ছাড়াই ভরাট সম্পন্ন করে অভিযুক্ত ভরাটকারিরা।

আয়োজকরা মনোক্ষুন্ন হয়ে বলেন, বাংলাদেশে পুকুর বা যেকোনো প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০ ও ২০২৩) এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সবার চোখের সামনে এটি ভরাট করা হলো। বিষয়টি বেশ হতাশাজনক। আয়োজকরা আরো বলেন,
প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও দৌড়ঝাপ করার পরেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক যেভাবে বিশালাকার এই পুকুরটির ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হলো সেটি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য লজ্জাকর বলেই মনে করছি।

বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে পুকুর ভরাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুকুরটি পুনঃখননের দাবি জানানো হয় উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিলন ভূমি মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।