রাজশাহী

মির্জা ফখরুলকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও, ‘চাপে পড়ে’ কান ধরে ক্ষমা চাইলেন রাজশাহীর যুবক

নিউজ ডেস্ক১৫ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও বানানোর পর ‘চাপে পড়ে’ নিজের কান ধরে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক যুবক। তারপরও তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরে আগামী ছয়মাস সপ্তাহে একদিন থানায় হাজিরা দেওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম আবদুল কাদের (৩১)। তবে ফেসবুকে তিনি সজীব নামে পরিচিত। বাগমারা উপজেলায় তার বাড়ি। বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে কাদেরের বানানো ভিডিওটি আপলোড হয়। এই ভিডিওতে কাদেরকে কয়েকবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করতে দেখা যায়। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন।

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তিনি ফানি ভিডিও তৈরি করেন। সে কারণে ভিডিওটি করেছিলেন।

তিনি ক্ষমা চাইলেও বুধবার রাতে স্থানীয় যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির নেতারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে আবদুল কাদেরকে ধরে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মুচলেকা দিয়ে বাগমারা থানা থেকে মুক্তি পান আবদুল কাদের।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে ব্যাঙ্গ করে এভাবে ভিডিও বানানো ঠিক হয়নি। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। কিন্তু ওই যুবক যেটা করেছেন সেটা আইনের ধর্তব্য অপরাধের মধ্যেও পড়ে না। তাই আগামী ছয়মাস সপ্তাহে একদিন থানায় হাজিরা দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এই ছয়মাস তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।