নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে অন্তত ২০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। বিষ প্রয়োগের ফলে শনিবার সকালে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মহল্লার একটি পুকুরে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছ মরে ভেসে ওঠে।
স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে। পুকুরটির ইজারাদার তাহেরপুর পৌর যুবলীগের পলাতক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা। তিনি নুরপুর মহল্লার বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর দাবি, এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের প্রায় ১২ বিঘা আয়তনের পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। তবে তিনি পলাতক থাকায় তাঁর স্বজনেরা পুকুরটির দেখভাল করছিলেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে কোনো পাহারাদার রাখা সম্ভব হয়নি।
সোহেল রানা গণমাধ্যমকর্মীদের ফোন করে জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এর আগেও তাঁর কয়েকটি পুকুর বেদখল হয়ে গেছে। বর্তমান ঘটনাতেও কারা জড়িত, তা তিনি নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সোহেলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারেন আমলে স্থানীয়দের জমি জোর করে দখল করে পুকুর কাটার অভিযোগ ছিলো। এই সোহেল একসময় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান ছিলেন। সোহেলের একসময় কিছুই ছিলো না। কালামের সহোযগী হিসেবে থাকায় তিনিই সোহেলের পরিবানের খরচ দিতেন। পরে কালাম ২০২৪ সালের নির্বাচনে এমপি হলে সোহেলের ভাগ্য খুলে যায়। রাতারাতি সোহেল বাগমারা ও দুর্গাপুরে অন্তত ৫০ টি পুকুর খনন করেছিলেন। যেগুলোর অধিকাংশ মানুষের জমি জোর করে দখল করা ছিলো। ৫ আগস্টের পরে সোহেল আত্মগোপনে গেলে সেই পুকুরগুলোর অধিকাংশ বেদখল হয়ে যায়।
বাগমারায় পলাতক যুবলীগ নেতার পুকুরে বিষ প্রয়োগে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ নিধন









