নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনী প্রার্থী নিয়ে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিতর্কিত নেতা আলমগীর সরকারকে। যার বাড়িতে ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে জেএমবির মিডিয়া সেল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যেখানে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুল রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাই সাংবাদিকদের মতবিনিময়সহ একাধিক গোপন বৈঠক করেছে।

২০০৪ সালের ১৩ এপ্রিল আলমগীর সরকারের বাড়িতে বাংলাভাইসহ জেএমবির নেতাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিডিও চিত্র রয়েছে। যেখানে জেএমবি নেতাদের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে আলমগীর সরকারকে।

তবে তৎকালিন পুলিশ সুপার মাসুদ রানার নির্দেশে তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম সরকার জেএমবির নেতাদের তার বাড়িতে বৈঠক করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আলমগীর সরকার।
গত ৭ মে চতুর্থ দফায় বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর দুইদিন আগে ৫ মে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন আব্দুস সালাম। আর বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন আলমগীর সরকার। সালামের বিরুদ্ধেও জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে উঠে। এ নিয়ে মিডিয়াতে সংবাদও প্রকাশ হয়।
- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদ বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের দলীয় মনোনিত প্রার্থীদের চিঠি ইস্যু করা হয়। দলের সভানেত্রীর স্বাক্ষরিত ১৬টি চিঠি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি গ্রহন করেন। এসময় আলমগীর উপস্থিত থাকায় সেখানে তার কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয় বলে জানান মাসুদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আব্দুস সালামের পরিবর্তে আলমগীর সরকার, হামিরকুৎসা ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে ছাবিনুন নাহার ও যোগিপাড়া ইউনিয়নে সোহাগ হোসেনের পরিবর্তে মোস্তফা কামালকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে দলের প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পৌছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য জেলার কাছে কোন তালিকা চাওয়া হয়নি। কেন্দ্র থেকে সরাসরি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
- আসাদ বলেন, আলমগীর সরকারের বাড়িতে ২০০৪ সালে জেএমবি নেতাদের বৈঠক হতো তা সবাই জানে। তার ভিডিও চিত্র রয়েছে। সেখানে গতবার তার নাম পাঠানো হয়নি। তবে এবার তিনি কিভাবে দলীয় মনোনয়ন তা জানা নেয় বলে জানান আসাদুজ্জামান আসাদ।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সালে আলমগীর সরকার ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর সরকার জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে তালিকা তৈরী করা হতো। সে তালিকা অনুযায়ী জেএমবির সদস্যরা আওয়ামী লীগ কর্মীসহ এলাকার লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও চাঁদা আদায় করতো।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থগিত হওয়ার বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। যাচাই বাছাই ৭ অক্টোবর ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ অক্টোবর।
তবে বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এর আগে একবার নির্বাচন বাতিল হলো। এবার আবার কাদাকাদি ছুড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। তবে আলমগীরের বিরুদ্ধে জেএমবি সংশ্লিষ্টতা ও ভিডিও থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিডিও
স/আর









