রাজশাহীর খবর

৫৫ কোটি টাকা ঋণই আত্মহত্যার পথে নিয়ে গেল বিএনপি নেতা মাইনুলকে

নিউজ ডেস্ক১৮ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজের পিস্তুলের গুলিতে রহস্যজনকভাবে রাজশাহী জেলা বিএনপির নেতা ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার খন্দকার মাইনুল ইসলাম (৬১) মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অন্তত ১০ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
ঘটনার পরে ওই বাড়িতে অবস্থানকারী সদস্যদের আটকের পর দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ঋণের দায়েই মাইনুল আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে।যমুনা থেকে নেওয়া ঋণ এখন সুদে আসলে গিয়ে দাঁড়িয়ে ৫৫ কোটি টাকা। ওই টাকার জন্য ব্যাংক থেকে মামলা করা হয়েছে।

 

 

সেই মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন আগে থেকেই অসুস্থ ঠিকাদার মাইনুল। এরপর সামলাতে না পেরে ঋণের দায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি-এমনটিই নিশ্চিত হতে পেরেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা যাকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাকেই আটক করে জিজ্ঞাবাদ করেছি। তবে হত্যাকাণ্ডে মতো কোনো তথ্য আমরা এখনো পায়নি। ফলে বিএনপি নেতা খন্দকার মাইনুল ইসলাম ঋণের দায়ের নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তারপরেও ঘটনার পরে কেন দ্রুত আলামত নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, সে বিষয়টি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

  • পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা খন্দকার মাইনুল ইসলাম গুলিতে মারা যাওয়ার পর পরই ওই বাড়িতে পুলিশ তার পিস্তল উদ্ধারে যায়। কিন্তু তার আগেই সেখান থেকে পিস্তল সরিয়ে ফেলে সিড়িঁর নিচে রাখা হয়। আবার ঘটনাস্থলের রক্তের দাগগুলোও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের একাধিক সদস্য ও পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঋণের ভারে জর্জরিত মাইনুল অনেকটা বিষন্ন ছিলেন। এছাড়াও অসুস্থতাও তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। ঘটনার দিন বুধবারও চিকিৎসা নিতে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে পরিশোধের জন্য যমুনা ব্যাংক থেকে দায়েরকৃত মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দায়ের হওয়া সবকিছু নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

 

  • সূত্রটি আরো জানায়, ব্যাংকে যে জমি জামানত হিসেবে দিয়েছিলেন মাইনুল, সেই জমি বিক্রি করে বড় জোর ৮ কোটি টাকা হবে। কিন্তু বাকি ৭৪ কোটি টাকা তিনি কোথায় থেকে সংগ্রহ করবেন-এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। আর এ কারণেই তিনি নিজের লাইসেন্সকৃত পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে সমভ্রান্ত পরিবারের সদস্য মাইনুল আত্মহত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পরপরই দ্রুত আলামত সরিয়ে ফেলেন বলেও দাবি করেছেন ওই পরিবারের সঙ্গে ঘোনিষ্ট একাধিক সূত্র। ফলে ঘটনার পরপরই মাইনুল ইসলাম নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরাই স্থানীয়দের জানালেও পরক্ষণে তারাই আবার প্রচার করতে থাকেন পড়ে গিয়ে মারা গেছেন তিনি। আর এসব নিয়েই পরবর্তিতে সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় অবস্থিত হোসনিগঞ্জের ১১৮ নম্বর বাড়িতে বিএনপির নেতা গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্বরত জরুরী বিভাগের চিকৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স/আর