নিজস্ব প্রতিবেদক :
একজন অসহায় মায়ের কান্নাজড়িত কণ্ঠ—“এত জায়গা থেকে তদবির করালাম, তবু আমার বাচ্চাকে আইসিইউ বেড দিলেন না… বেড পেলে বাচ্চাটা বেঁচে যেত।” এমন হৃদয়বিদারক অভিযোগ এখন প্রায় প্রতিদিনই শুনতে হচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের।
জানা যায়, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের জন্য সরকারি পর্যায়ে একমাত্র ডেডিকেটেড ১২ শয্যার শিশু আইসিইউটি বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে। আজ সকালেও এই আইসিইউতে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন অন্তত ৩৭ জন শিশু রোগী। প্রয়োজনীয় বেড না থাকায় অনেক রোগীকেই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ২০২২ সালে মাত্র ৪ শয্যা নিয়ে এই শিশু আইসিইউ যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীর অনুমতিতে এবং অভিভাবকদের অনুরোধে উদ্যোগটি নেওয়া হয়, যদিও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের শিশু আইসিইউ বিষয়ে ছিল সীমিত প্রশিক্ষণ।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নতুন আইসিইউ কমপ্লেক্সে বেড সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ শয্যা করা হলেও এখনো প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়ে গেছে। সরকারি অবকাঠামো থাকলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগ থেকে অস্থায়ীভাবে আনা চিকিৎসক এবং নার্সদের ওপর নির্ভর করেই চলছে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চিকিৎসক ও সচেতন মহল বলছে, অবিলম্বে প্রতিটি জেলায় শিশু আইসিইউ স্থাপন এবং রাজশাহীর বিদ্যমান অবকাঠামো সম্পূর্ণ চালু করা জরুরি। তা না হলে প্রতিদিনই এমন করুণ ঘটনা ঘটতেই থাকবে, আর অসহায় বাবা-মায়ের কান্না থামবে না।










