
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ৫ বছরে জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপনের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন ৭৬৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এই ব্যাংক ঋণগুলো তিনি নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা নর্দান পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, এলাইন্স ফাইনান্স পিএলসি ও এনসিসি ব্যাংক থেকে।

এছাড়াও নিজ নামে ও স্ত্রী নামে সাভার, পূর্বাচালসহ বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন পানির দামে। আর তাঁর ৫০ ভরি স্বর্ণের দাম মাত্র ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হারে। বিগত স্বপের আয়ও বেড়েছে কয়েক গুন। আর ২০০৮ সাল থেকে গত ১৫ বছরে তার আয় বেড়েছে প্রায় ২৯ গুন। ২০০৮ সালে প্রথম যখন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তখন বার্ষিক আয় ছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার। এখন তাঁর বার্ষিক আয় গিয়ে দাঁড়িয়ে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা।
আবু সাইদ আল মাহমুদ টানা চর্তুথ বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলফ নামা দাখিল করেছেন। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ১৫ বছরে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে বিপুল হারে। সবচেয়ে বেড়েছে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ। ইসলামী ব্যাং, ট্রাস্ট ব্যাকংসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গত ৫ বছরে আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য ঋণ নিয়েছেন ৭৬৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্বপনের ব্যাংক ঋণই বেশি বলেও জানা গেছে। তবে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি। অথচ গত ২০১৮ সালেও তাঁর কোনো ব্যাংক ঋণ ছিল না।
এ বছরে তিনি ৭৪ দশকি ৫ শতাংশ জমি কিনেছেন মাত্র ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩১ টাকা। আর রাজুকের পুর্বাচলে ৭ দশমিক ৫ কাঠা জমি কিনেছেন মাত্র ২১ লাখ টাকায়। তাঁর স্ত্রীর নামে ৭৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি কিনেছেন মাত্র ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩১ টাকায়। আর সাভার এলাকায় ৫ শতাংশ জমি কিনেছেন মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এটিও অবাস্তব বলে দাবি করেছেন অনেকেই। এছাড়া স্ত্রী এবং নিজ নামে দুটি ফ্লাট কিনতে অগ্রিম দিয়েছেন ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
স্বপনের নগদ আছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার ৪৭৪ টাকা। বন্ড ও শেয়ার কেনা রয়েছে ৯৯ লাখ ৫২ হাজার ৯১৫ টাকার। ৬৮ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪৬ টাকা দামের একটি গাড়ি রয়েছে। ৫০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে যার দাম মাত্র ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
তবে এসব বিষয়ে আবুস সাইদ স্বপনের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স/আর








