রাজশাহীর খবর

রাজশাহীর কিংসের পরাজয়ে ভেস্তে গেল যতসব আয়োজন

নিউজ ডেস্ক৯ ডিসেম্বর ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কেউ কিনেছেলিন আতশবাজি, কেউ কিনেছিলেন রং আবার কেউ তৈরী ছিলেন ঢাক-ঢোল নিয়ে। মোড়ে মোড়ে আয়োজন করা হয়েছিল পিকনিকের। বিকেল থেকেই এসব আয়োজন সম্পন্ন করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এতোসব কিসের জন্য। কোনো উৎসবকে ঘিরে নাকি কোনো বিজয় উল্লাসে মেতে উঠতে এমন আয়োজন করেছিলেন নগরবাসী? এমন প্রশ্নের উদ্রেগ জন্মও দিয়েছিল অনেকের মাঝে।

 

যেসব মানুষ ক্রিকেট নিয়ে অতোকিছু ভাবেন না, খোঁজ রাখেন না দেশের কিংবা বিদেশের ক্রিকেট নিয়ে তারা হয়তো বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এমন প্রশ্ন নিয়ে ঘুর-পাক খেয়েছেন। কিন্তু এতোসব যে কারণে আয়োজন, সেই রাজশাহী কিংসের শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখানকার হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকরা হয়েছেন হতাশ। প্রিয় দলের হার মেনে না নিতে পেরে আবার কারো মনে দেখা দেয় ক্ষোভ।

 

ঢাকা ডাইনামাইটসের কাছে রাজশাহীর হারের ফলে বিপিএলের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন যেমন খেলোয়াড়দের ধূলিষ্যাত হয়েছে, তেমিন এই দলটিকে যারা এতোদিন মাঠে এবং মাঠের বাইরে বসে সমর্থন জুগিয়েছেন তারাও খেলা শেষে অনেকটা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

 

আবার শেষ পর্যন্ত রানার্স আপ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করাটাকেও অনেকেই দেখছেন সাফল্যের একটি পরিপাটি দিক হিসেবে। যদিও চূড়ান্ত সাফল্যটা ধরা নেয়নি রাজশাহী কিংসের খেলোয়াড়দের কাছে। তারপরেও যে দলটি এবার বিপিএলের শুরুতে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ফিরে এসে রানার্স আপ হওয়াটাকেও অনেকেই দেখছেন বড় সাফল্য হিসেবে।

 

ফলে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে যখন বিপিএলর জবনিকাপত ঘটে, তখন রাজশাহী কিংসের সমর্থকরা কেউ অনেকটা হতাশা আবার কেউ কিছুটা শান্তনা নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন বা বাসায় বসে খেলা দেখে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

 

নগরীর অলোকার মোড়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা শেষে রাজশাহী কিংসের সমর্থক আলী আকবর সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘অনেকটা আশা ছিল রাজশাহী কিংসই হবে এবারের বিপিএলের চ্যাম্প্য়িন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশার গুড়ে বালি পড়েছে। তাই মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

 

আরেক সমর্থক হুসাইন মোহম্মদ শামিম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘শীতের কষ্ট উপেক্ষা করে অটোরিকশায় চড়ে নওদাপাড়া থেকে অলোকার মোড়ে খেলা দেখতে এসেছিলাম বড় পর্দায়। সঙ্গে করে কয়েকটি আতশবাজিও নিয়ে এসেছিলাম, যেন রাজশাহী কিংসের শিরোপা জয়ের পরে অন্যদের সঙ্গে হৈ-হুল্লুড় করতে করতে আতশবাজির বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে বাড়ি যেতে পারি। কিন্তু শেষ রাজশাহী কিংসের হারে সেই কষ্টটা আরো বেড়ে গেল। ফলে আতশবাজিরও বিস্ফোরণ ঘটানো হলো না।’

 

নগরীর বর্ণালীর মোড় এলাকার আলী আশরাফ বলেন, ‘রাজশাহী কিংস জয়লাভ করবে, এমন আশা ছিল গোটা রাজশাহীবাসীর। তাই আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে দোকানেই খেলা দেখার আয়োজন করি। খেলা শেষে রাতের খাবার শেষে যেন বাড়িতে ফিরতে পারি-এর জন্য পিকনিকেরও ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিকনিকটি মাটি হয়ে গেল রাজশাহী কিংসের পরাজয়ের মাধ্যমে।’

 

নগরীর উপশহর এলাকার মুনুসর আলী বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নই যে বড় কথা-তা নয়। বড় কথা হলো, রাজশাহী কিংস খাদের কিনারা থেকে এতো দূরে উঠে এসেছে সেটিই। কঠোর মনোবল আর দৃঢ়তা না থাকলে শুরুতেই ব্যাকফুটে যাওয়া একটি দল শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলার অর্জন করতে পারে না। এটিই রাজশাহী কিংসের জন্য বড় সাফল্যতা। তাই আমরা কিছুটা হলেও শান্তনা পেয়েছি যে, রাজশাহী শেষ পর্যন্ত রানার্স আপ হতে পেরেছে।’

 

এদিকে রাজশাহী কিংসের পরাজয়ের পরে ফেসবুকসহ সামাজিক গণম্যমেও হতাশা ও কিছুটা শান্তনার বাণীর ঝলক দেখা গেছে এ দলটির সমর্থকদের মাঝে।

 

দলটির পৃষ্ঠপোষক ও পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও শান্তনার বাণী শুনিয়েছেন তার দলের সমর্থকদের। তিনি ম্যাচ শেষে তার ফেসবুক পেজে কমেন্ট করেন, রাজশাহী কিংসের সকল সমর্থকদের ধন্যবাদ এ দলটির সমর্থন করার জন্য। এই যাত্রাটি ছিল চমৎকার। আগামীতে আমরা আরো শক্তিশালী হবো এই প্রতিজ্ঞা করছি। ধন্যবাদ ঢাকা ডাইনামাইটসকে।

 

রাজশাহী কিংসের সমর্থক সর্মথক সুমন আহমেদ তার ফেসবুকে লিখেছেরন, আজকে রাজশাহী কিংস জিতলে সামিকে রাজশাহীর আম,জাম,কাঁঠাল,কলা,খেজুরের রস গুড় এবং ১৮পদের জর্দ্দা দিয়ে পান খাওয়াবো। কিন্তু তা আর হলো না।’

 

তারিকুল আলম প্রতীক ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন, ঢাকা ডাইনামাইটস। রাজশাহীর জন্য সমবেদনা। তবে, অপ্রিয় সত্য কথা এটাই যে, দরবেশের কাছে রাজশাহী কিংসের প্লেয়ারেরা বিক্রি হয়ে গেছিলো…

 

এমনই নানা মন্তব্য উঠে আসে রাজশাহী কিংসকে নিয়ে রাজশাহীর ক্রিকেটপ্রেমী হাজারো সমর্থকদের মাঝে। যারা সেই বিপিএলের চতুর্থ আসর শুরুর পর থেকেই এতোদিন তাদের প্রিয় রাজশাহী কিংসকে মনে-প্রাণে সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন তাদের মাঝে।

 

স/আর