সিরাজদিখান প্রতিনিধিঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের বালুরচর ইউনিয়নের কয়রাখোলা গ্রামের মৃত আবুল কাশেম এর ছেলে মোঃ বরকত উল্লাহ ও তার ভাই লিউ এর বিরুদ্ধে কৃয়কৃত সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের কয়রাখোলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আমিনুল হকের সাথে।
ভুক্তভোগী আমিনুল হক জানান, ১৯৭৪ সালে আমার চাচা নুর মোহাম্মদ তার ছোট আউয়ালের কাছ থেকে কয়রাখোলা মৌজায় ৯ দাগে মোট ৭০ শতাংশ জায়গা কৃয় করে। যার আর এস খতিয়ান নং-২১৭,২২১,১৮১ ও ৯১৫ এবং দাগ নং- ৩৮৭,৩৮৮,৩৬২,৩৬৪,৩৬৫,৩৫৬,৩৫৭,৩৬০ ও ৩৮৬।
এবং ১৯৭৪ সাল থেকেই কোন ধরনের বাধা ছাড়াই এই যায়গা ভোগ দখল করে আসিতেছে পরবর্তীতে আমার বোন বড় বোন মনোয়ারা বেগম ২০০৮ সালে নুর মোহাম্মদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ঐ ৭০ শতাংশ জায়গা কৃয় করে নেয়।

এর পরে আমার বোনের জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে সে টাকার বিনিময়ে ২০১৮ সালে আমার নামে ৭০ শতাংশ জায়গা হেবা দলিল করে দেন, পরে এই সম্পত্তি আমি আমার ছেলে মোঃ নুরে আলমের নামে পুনরায় দলিল করে দেই, এবং ৭০ শতাংশ জায়গার নির্ধারিত মূল্য আমার ছেলে আমার বোন মনোয়ারা বেগমকে বুঝিয়ে দেয়।এবং এই পর্যন্ত ৭০ শতাংশ জায়গা আমরা ভোগদখল করে আসতেছি।
কিন্তু হঠাৎ করে বরকত উল্লাহ ও তার ভাই লিউ আমাদের কৃয়কৃত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে,তারা বিভিন্ন সময় আমার বাড়িতে হামলা করে এবং আমাকে আমার পরিবারকে মেরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়,তারা জোর করে আমার জায়গা দখল, জায়গার উপরে স্থাপনা নির্মাণ সহ বিভিন্ন ধরনের অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছে আমার উপরে।
রাতের বেলায় বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ঘরের টিনে ঢিল মারা থেকে শুরু করে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে রেখেছে আমিও আমার পরিবারকে।এবং তাদের ইটভাটায় আমার ৮৫ শতাংশ জায়গা বাড়ায় দেয়া রয়েছে, কিন্তু আজকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সেই জায়গার বাড়াও তারা দিচ্ছে না।
তারা অনেক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হওয়ার কারণে এলাকার কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেনা, কারণ কেউ তাদের বিরুদ্ধে গেলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়,তাদের বিরুদ্ধে আমি সিরাজদিখান থানায় একাধিক বার লিখিত অভিযোগ করে কোন সহায়তা পায়নি, তাই আমি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি যা এখনো চলমান রয়েছে।
কিন্তুু বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তারা কোন ধরনের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত আমার বাড়িতে হামলা করে, রাতে আমার বাড়িতে ঢিল ছুড়ে, ঘরের টিনের চাল ভেঙে ফেলে,এ নিয়ে প্রতিনিয়ত আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কে থাকি, তাদের ক্ষমতার কাছে আমি অসহায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মত কেউ নেই।
আমি একজন অসহায় অটোরিকশা চালক তাদের সাথে কোনভাবেই পেরে উঠতে পারছিনা তাদের ভয়ে কেউ আমার পক্ষে কথা বলতে চায় না, তাই আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার, মানবাধিকার কমিশন ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।
তিনি আরো বলেন,আমি শুনেছি আমার চাচাতো ভাই বোনেরা মাজহারুল ইসলাম ও নুর ইসলাম সহ তার ৬ ভাই-বোন মিলে আমার সম্পত্তির বৈধ নামজারি বাতিল করে তাদের নিজেদের নামে নামজারি নিয়ে এসেছে যা আমি অবগত নই, তাই আমি তাদের নামজারীর রায়ের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ আদালতে আপিল করি, এই বিষয়ে বিভিন্ন ধারায় বিজ্ঞ আদালতে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।
এই বিষয়ে আমিনুল হকের ছেলে কুয়েত প্রবাসী মোঃ নুরে আলম জানান, আমি আমার বাবার সাথে ঘটনার বিষয়ে বরকতের সাথে কথা বলি, এবং জানতে চাই সে কেন আমার জায়গায় দখল করতে চাচ্ছে কি কারনে আমার বাবা এবং আমার পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, কিন্তু বটকত উল্লাহ আমার কোন কথার গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো টেলিফোনে আমাকে হুমকি দেয়,সে বলে তুই বাংলাদেশ আসিস তোকে মেরে মাটিতে পুতে ফেলব যদি কোন বাপ থাকে জানো আমাকে ঠেকায়, বরকতুল্লারা তারা একটি গ্রুপ এরা হচ্ছে এলাকার ভূমিদস্য মাটির খোলার ব্যবসা করে এরা এলাকার অনেক মানুষের জায়গা সম্পত্তি এভাবে দখল করে রেখেছে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না আমি প্রবাসে থাকি এখন আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমি যদি বাংলাদেশে আসি আমাকেও মেরে ফেলতে চায় এমন অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তাই আমি আপনাদের মাধ্যমে একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে, সরকারও প্রশাসনের কাছে এর ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।
এই বিষয়ে জানার জন্য বরকত উল্লাহর মুঠোফোন একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।









