চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সাড়ে ৪ মাস পর বৃষ্টি, আমের মুকুলে স্বস্তি

নিউজ ডেস্ক১২ মার্চ ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গত বছরের ১ নভেম্বর অন্তত ২৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর জেলায় রেকর্ড করা হয় ১৯১ মিলিমিটার। এর প্রায় সাড়ে চার মাস বৃষ্টিহীন ছিল জেলা। টানা এই বিরতির পর বহু কাঙ্খিত বৃষ্টি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গড়ে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়ে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে হালকা বাতাস ও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সদরে ১, শিবগঞ্জে ১, গোমস্তাপুরে ১৫, নাচোলে ২ এবং ভোলাহাটে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে কৃষি বিভাগ।

আকাশে এখনও রয়েছে মেঘ। বইছে হালকা বাতাস।
শীতের শেষে গত কয়েকদিনের অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং দিনব্যাপী ঘোলাটে রোদের আবহাওয়ার মধ্যে হালকা এই বুষ্টি কিছুটা প্রশান্তি এনেছে জনজীবনে।

এদিকে, আমের রাজ্যে গাছে গছে রয়েছে ভরা মুকুল।

অস্বাভাবিক এই আবহাওয়ায় কিছু মুকুল নষ্ট (স্থানীয় ভাষায় জ¦লে বা পুড়ে যাওয়া) হওয়ার কথা জানিয়েছেন আমচাষিরা। ফাল্গুন শেষে গুমোট অবস্থা কাটাতে সুন্দর বৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমির ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি গাছ থেকে চার লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষকরা বলছে, সে ক্ষেত্রে সারা দেশে এবার মুকুলের যে অবস্থা, তাতে উৎপাদন খরচ অনুপাতে আম মোটেও লাভজনক হবে না।

এ জন্য অনেকেই আমচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কেটে ফেলা হচ্ছে বাগান। তবে পাকা আম পুরোদমে উঠতে এখনও প্রায় তিন মাস। শেষ পর্যন্ত উৎপাদন কেমন হয়, তা বলা এখন সম্ভব নয়।
এদিকে, গত ২০২৫ সালে জেলা থেকে মাত্র ১৫৩ টন আম রপ্তানি হয়েছে। ২০২৩ সালে জেলা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৬ টন আম রপ্তানি হয়েছিল। কাঁচা ও পাকা আম রপ্তানি নিয়ে সারা বছর বিশেষ করে প্রচলিত মৌসুমে অনেক কথা হলেও এখনও তেমন কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড, ইয়াসিন আলী বলেন, জেলায় এবার প্রায় শতভাগ গাছেই মুকুল এসেছে। আর বৃষ্টিও হয়েছে গুটি আসার মুহূর্তে। এই বৃষ্টি আমের মুকুল, গুটি এমনকি অন্য ফসলের জন্যও ভালো ফল বয়ে আনবে। তবে ক্ষতি হতে পারে প্রস্ফুটিত মুকুলের।

সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, এই সময় আমগাছে হপার পোকা ও ছত্রাক (ফাঙ্গাশ)-এর আক্রমণ হয়। এটি রোধ করতে ছত্রাকনাশক ছিটানো যেতে পারে। হপারের আক্রমণে কিছু এলাকার গুটি কেটে যাওয়ার কিছু খবর পাওয়া গেছে। তবে সার্বিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভালো।

সদর উপজেলার রাকৃষ্টপুর গ্রামের পেশাদার আমচাষী মন্টু মিয়া (৬৫) বলেন, বৃষি আরো হওয়া দরকার। এই বৃষ্টি আমের উপকার করবে। তিনি বলেন, আম উৎপাদন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া নাবি বা নামলা (লেট ভ্যারাইটি) জাতের আম সারা বছর উৎপাদিত হচ্ছে এবং ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে যখন আম ওঠে তখন লিচু, জাম, এমনকি কাঁঠালসহ অনেক রকম মৌসুমি ফল বাজারে থাকে। বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ওইসব ফল বহুদিন বাজার মাতায়। ফলে আমের ওই রাজত্ব এখন কম। অনেক কথা হলেও সংরক্ষণাগার বা প্রক্রিয়াজাতের তেমন শিল্প গড়ে ওঠেনি।

সদর উপজেলার বিদিরপর গ্রামের আমচাষি বিষু আলী (৬০) বলেন, বৃষ্টি কাঙ্খিত। গত কয়েক দিন সকালের ‘মহা’তে (রোগ সৃষ্টিকারী ও হপার পোকার আক্রমণ সহায়ক কুয়াশা) ক্ষতি হয়েছে। মুকুল কেটে জ¦লে গেছে (গুটি হয়নি)। আম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা এমন হতাশার কথা জানান তিনি।

নিউ মার্কেটে রোজায় বারোমাসি কাটিমন জাতের আম ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান আম বিক্রিকারী আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, কাটিমন সারা বছর ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।