রাজশাহী

লাখ টাকা দামের গরুতেই লাভ বেশি

নিউজ ডেস্ক৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

আশিকুর রহমান ও অমিত হাসান:

ঈদ-উল-আযহার আছে আর মাত্র কয়েকটা দিন। এ উপলক্ষে রাজশাহীর সিটি হাটজুড়ে কোরবানির পশুতে ঠাসা। যেন তিল ধারনের জায়গা ফাঁকা নাই। এ হাটে দেশী গরুর পাশাপাশি অনেক ভারতীয় গরু উঠেছে। হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগম হয়ে থাকছে। গরুর আকার দেখে দাম হাঁকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

 

তবে ক্রেতারা বলছেন, লাখ টাকার বড় গরুতে ক্রেতাদের বেশি লাভ হচ্ছে। আর ছোট গরু হলে দামে মিলছে না।

বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সিটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের দেশি গরুর পাশা-পাশি ভারতীয় গরুও রয়েছে চোখে পড়ার মত। ইজারাদার আতিকুর রহমান ওরফে কালুর হিসাবমতে, হাটের ৬০ শতাংশ গরুই দেশি। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় গরু ও মহিষ।

এ হাটে ভারতীয়, নেপালী ও ভূটানের বেশ বড় বড় গরুগুলো উঠেছে। সেইসব গরু গুলো দাম চাওয়া হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জোড়া। তারা বিক্রি করছেন দুই লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। আর ছোট গরুগুলোতে যে পরিমাণ মাংশ হবে তাতে দাম বেশি পড়ে যাচ্ছে এমনটিই বলেছিলেন চাঁদপুর থেকে গরু কিনতে আসা ইব্রাহিম। তিনি চট্টগ্রামের সাগরিকা গরু হাটে গরু বিক্রি করার জন্য রাজশাহীর সিটি হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন।

রাজশাহীর হাটগুলোতে বরাবরই দেশি গরুর চাহিদা বেশি। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয়, ভুটানী ও নেপালী জাতের বিদেশী গুরু। তবে দেশের গরুর চেয়ে এ গরুগুলো বেশি মাংশ হওয়ায় তাদের দামও একটু বেশি। তবে দেশি জাতের গরুর বেশ বিক্রি হচ্ছে এমনটাই বলছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

ত্রেতারা বলছেন, এ হাটে আগের দিনের তুলনায় অনেক ভারতীয় গরু উঠেছে। এইসব গরুগুলো বেশির ভাগ রাজশাহীর বাইরের বেপারীরা কিনছেন। তারা একটু বেশি দামেও হলে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কেউকেউ বলছেন গত বারের চেয়ে এবার গরুর দাম একটু বেশি।
কোরবানির জন্য শুধু দেশি বা বিদেশী বিভিন্ন জাতের গরুই উঠেনি, হাটে চোখে পড়ার মত উঠেছে মহিষও।

 

সিল্কসিটি নিউজকে নাটের কানইখালী থেকে কোরবানির জন্য মহিষ কিনতে আশা রেকাত আলী জানান, হাটে ব্যাপক গরু মহিষে রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের চেয়ে গতকাল ভারতীয় গরু ও মহিষ অনেক রয়েছে। তারা দামটা একটু বেশি চাচ্ছেন। তবে গরু বা মহিষ বড় বা লাখ টাকার ওপরে কিনলে বেশি লাভ হচ্চে।

ঢাকা থেকে গরু কিনতে আসা আসলাম হোসেন নামের এক বেপারী সিল্কসিটি নিউজকে জানান, এবার হাটে গরুর দাম বেশি মনে হচ্ছে।  তবে বড় গরুর কেনা ও বিক্রিতে পর্তা হবে বলে মনে হচ্ছে। আমি ঢাকাতে গরু বিক্রি করবো বলে ১০ টি ভারতীয় গরু  ও ২৭টা দেশি জাতের গরু কিনেছি। এ গরুগুলো মধ্যে ১ লাখ বেশি। এর নিতে আছে দেশি গরুগুলো। যে গরু কিনেছে তাতে সব কিছু ভাল থাকলে আসা করছি লাভ হবে।

তিনি বলেন, গত বছর তাঁরা ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা মণ ধরে গরু কিনেছেন। এবার সেটা ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা উঠে গেছে। তার ছোট গরুতে ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা মন পড়ছে। তার পরেও ঈদতো তেমন দাম নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নাই।

 
এদিকে ভারতীয় একজন ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব বলেন, গত হাটের চেয়ে আজকের হাটে ভারতীয় অনেক গরু হাটে এসেছে। ক্রেতারা মোটামোটি সব গরুই কিনছেন। তবে ভারতীয় গরুর দাম কিছুটা কম থাকলেও দেশী গরু গুলোর দাম কিছুটা বেশি। সব মিল গরুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই আছে।

সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ঈদে ভারত থেকে গরু না আসলেও  তেমন সমস্যা হবে না। কারণ হাটে ব্যাপক দেশী জাতের গরু রয়েছে। আবার এ অঞ্চলের খামারিদের কাছে যে পরিমাণ গরু আছে, তাতেই চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স/আর