নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার একটি সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্মাণকাজে ধীরগতির অভিযোগ তুলে সড়কে ধানের চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার বিকেলে কেশরহাট পৌরসভার হরিদাগাছী এলাকায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে সড়কটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। ফলে সড়কটি বর্তমানে চলাচলের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি হেঁটে চলাচল করতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউজিআইপি)-এর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আওতায় এডিবি, এএফডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে গত ৮ ডিসেম্বর আব্দুর রহিমের বাড়ি থেকে হরিদাগাছী বিল হয়ে হরিদাগাছী দরগাবাড়ি পর্যন্ত ইউনি ব্লক সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল ও মাছ পরিবহনের জন্যও এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
হরিদাগাছী গ্রামের বাসিন্দা ইসরাফিল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, মোজাহার আলী ও রাশেদা খাতুন বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে রাস্তা পরিমাপ করা হলেও কার্যকর কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা হাঁটুসমান কাদায় ডুবে যায়। এতে রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর নির্মাণকাজ শুরু হলেও সাত মাস পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তারা হতাশ।
এ বিষয়ে মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কেশরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









